দমকল, বিদ্যুৎ, পুলিশ সবাই বলল ‘না’! অনুমতি পেল না রাণাঘাটের ১১২ ফুটের দুর্গা প্রতিমার পুজো, বিপদে পুজো কমিটি

২০১৫ সালে দক্ষিণ কলকাতার দেশপ্রিয় পার্কের চমক ছিল সবচেয়ে বড় দুর্গার। সেই বছর ওই পুজো কমিটি তৈরি করেছিল ৮৮ ফুটের দুর্গা প্রতিমা। যদিও জনসমুদ্রের জেরে পঞ্চমীর দিনই ঝাঁপ বন্ধ হয়েছিল সেই মণ্ডপের। এবারও তেমনই ভাবেই ঝাঁপ পড়তে চলেছে আরও এক পুজোর। সম্পূর্ণ মণ্ডপ তৈরির আগে শেষ। অনুমতিই মিলল না ১১২ ফুটের দুর্গা প্রতিমার।    

রাণাঘাটের অভিযান সংঘ সবথেকে উঁচু দুর্গা প্রতিমা বানিয়ে বড় এক চমক দিতে চেয়েছিল দর্শনার্থীদের। এই বিষয়টি ইউনেস্কো ও গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডেও জানানো হয়েছে বলে খবর। কিন্তু এত সব কিছুর মধ্যে এই পুজোর অনুমতি দেয়নি পুলিশ-প্রশাসন। সেই কারণে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন পুজোর উদ্যোক্তারা। গত মঙ্গলবার বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের এজলাসে এই মামলা উঠলে তিনি এই বিষয়ে জেলাশাসককে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেন।   

হাইকোর্টে পুজোর উদ্যোক্তারা জানিয়েছিলেন, “প্রতিবছর তারা পুজো করেন। সেই ক্ষেত্রে বাধা দেওয়া হয় না। এবার দমকল ও বিদ্যুৎ দপ্তর অনুমতি দিলেও স্থানীয় প্রশাসন অনুমতি দেয়নি। তাঁরা জেলাশাসকের কাছে অনুমোদন চায়। তাতেও অনুমতি মেলেনি। তারা আরও জানান, ইউনেস্কো ও গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ডকে এই বিষয়টি জানানো হয়ে গিয়েছে। তাঁদের প্রতিনিধি আসবেন পুজোয়”।

Ranaghat-Durga

আজ, শুক্রবার জেলাশাসক জানান, বিদ্যুৎ দফতর, দমকল, পুলিশ, বিডিও এবং রানাঘাট এসডিও এই পুজোর আবেদন বাতিল করে দিয়েছে। সেই কারণে এই বিশাল মূর্তির পুজোর অনুমতি দেওয়া হল না বলে জানানো হয়েছে জেলাশাসকের তরফে।

বিদ্যুৎ দফতরের কথায়, এই পুজো কমিটির তরফে জানানো হয়েছে পুজোর জন্য প্রতিদিন   কিলোওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হবে। তবে পুজোর যা মণ্ডপ তাতে প্রতিদিন অন্তত ২০ থেকে ২৫ কিলোওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন বলে দাবী বিদ্যুৎ দফতরের। আর এই এত পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা কার্যত অসম্ভব বলেই এর অনুমতি দেয়নি বিদ্যুৎ দফতর। দমকলের আবার যুক্তি, ওই পুজো কমিটিকে আগের বছরের পুজো ও জমির অনুমতি পত্র জমা করতে হবে। কিন্তু তা তারা জমা করে নি। সেই কারণেই পুজো কমিটির আবেদন বাতিল করেছে দমকল বিভাগ।

অন্যদিকে পুলিশের যুক্তি, “২০১৫ সালে দেশপ্রিয় পার্কের পুজোয় একইরকম ভাবে ১০০ ফুটের বড় দুর্গা করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে পদপিষ্টের ঘটনায় সেই পুজো বন্ধ করতে বাধ্য হতে হয়। এখানেও যে জায়গায় পুজোর অনুমতি চাওয়া হয়েছে তার প্রবেশ পথ অত্যন্ত সংকীর্ণ। মাত্র ১৪ ফুটের রাস্তা রয়েছে। ফলে প্রশাসন দেশপ্রিয় পার্কের মত ঘটনার আশঙ্কা করছে”।

আরও পড়ুনঃ সর্ষের মধ্যেই ভূত! অভিষেকের ঘনিষ্ঠ হওয়ার পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে তোলাবাজি ফিরহাদ হাকিমের ‘ওএসডি’র, থানায় দায়ের এফআইআর

এমন নানান সব যুক্তি দেখিয়ে রাণাঘাটের এই  ১১২ ফুটের দুর্গা প্রতিমার পুজোর অনুমতি দিলেন না জেলাশাসক। আগামী সোমবার হাইকোর্টে এই পুজো নিয়ে মামলার শুনানি রয়েছে। এদিন হাইকোর্ট পুজো নিয়ে কী নির্দেশ দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাণাঘাটের এই পুজো কমিটি। আদৌ শেষ পর্যন্ত পুজো হবে নাকি এত মাসের সমস্ত পরিশ্রম বৃথা, তা ভেবেই কূলকিনারা পাচ্ছেন না পুজো উদ্যোক্তারা।

RELATED Articles