যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আচমকাই হাজির সেনাবাহিনী। সেনার পোশাক পরেই ক্যাম্পাসে এল একদল যুবক-যুবতী। যাদবপুরের র্যাগিং সংস্কৃতি শেষ করাই নাকি তাদের লক্ষ্য। কড়া হাতে সেখানকার পরিস্থিতি সামলাবে তারা।
সবই ঠিক আছে, কিন্তু তাদের পরিচয়ের হিসাব মিলল না কোনওভাবেই। তাদের মধ্যে কেউ দাবী করলেন, তারা রাষ্ট্রসংঘের বিশ্ব শান্তিরক্ষা বাহিনীর স্বেচ্ছাসেবী, তো কেউ আবার দাবী করলেন তারা নাকি দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রকের নিয়ন্ত্রণাধীন বাহিনী। কিন্তু আসলে কে তারা? কেই-ই বা তাদের যাদবপুরে পাঠাল? তা নিয়ে তৈরি হয় বিপুল বিতর্ক। আর এসবের মধ্যেই ফের নতুন করে যাদবপুরে নিরাপত্তা নিয়ে উঠে প্রশ্ন।
সেনা পোশাক পরা এই বাহিনী আসলে কারা?
সূত্রের খবর, এই বাহিনী আসলে রাষ্ট্রসংঘের বিশ্ব শান্তিরক্ষা বাহিনীর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও নয়, আবার ভারতীয় সেনাও নয়। তারা শুধুমাত্র দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য। সেখানে নিয়মিত প্রশিক্ষণ চলে। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় যে থানায় নিয়োগ করা হবে তাদের।
এমনভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কেন তারা?
এই বাহিনীর দাবী, তারা যাদবপুরে অরাজকতার জন্য নিরাপত্তা দিতে এসেছেন। সকলকে রক্ষা করা, র্যাগিং সংস্কৃতি শেষ করাই তাদের লক্ষ্য। কিন্তু ভারতীয় সেনার অনুমতি ছাড়া কি সেনার পোশাক পরা যায়, সেই প্রশ্নটাই এখন ঘুরছে চারিদিকে। সূত্রের খবর, এই বিষয়ে ইস্টার্ন কম্যান্ডের কাছে খবর গিয়েদেওয়া হয়েছে। তাদের তরফে এবার কী পদক্ষেপ করা হয়, এখন সেটাই দেখার।
এই সংগঠনের তরফে কী জানানো হল?
এই সংগঠনের গ্রুপ ক্যাপ্টেন নিখিল মণ্ডলের কথায়, “রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিশ্ব শান্তিরক্ষা বাহিনীর স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী। UNO দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। ভারত সরকারের দ্বারা পরিচালিত। বিশ্বে যেখানে অশান্তি হবে, সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পৌঁছে যাওয়া আমাদের অধিকার এবং কর্তব্য”।
অন্যদিকে আবার এই সংগঠনের কর্ণধার কাজী সাদিক হোসেন দাবি করেছেন, “এটা স্রেফ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। সেনার পোশাক পরাটা ভুল হয়েছে। শান্তিবাহিনী তৈরির জন্য কেন্দ্রের কাছে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু অনুমতি এখনও মেলেনি”।






