বাইপাসে শ্লীলতাহানীর শিকার তরুণীকে বাঁচাতে মৃত্যুমুখে পড়লেন গৃহবধূ!

আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা তারপরেই শুরু হচ্ছে দেবীপক্ষ। কিন্তু তিলোত্তমায় শনিবার যে ঘটনা ঘটল তাতে যেন মনে হলো দেবীপক্ষ শুরু হয়ে গিয়েছে। মধ্যরাতে বাইপাস (EM bypass) এর কাছে অন্ধকার থেকে ভেসে আসছে নারীকন্ঠের আর্তনাদ! সেই আওয়াজ যিনি শুনলেন সেই নীলাঞ্জনা চট্টোপাধ্যায় (Nilanjana Chatterjee) আর তখন দ্বিতীয়বার ভাবেননি, ওই তরুণীকে বাঁচাতে তিনি তখন নিজের গাড়ি থেকে নেমে পড়েছেন। তাঁকে দেখতে পেয়ে অভিযুক্ত তার পায়ের উপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দেয়! কিন্তু থেমে থাকেননি নীলাঞ্জনা ওই অবস্থাতেই ১০০ তে ফোন করেন এবং পুলিশ এসে ঘটনা সামাল দেয় এবং নির্যাতিতা তরুণীকে উদ্ধার করে ও ট্রমা কেয়ার অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে নীলাঞ্জনা দেবীকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে নীলাঞ্জনা হাসপাতালে পায়ের হাড়ের টুকরো টুকরো অবস্থা নিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। তিনি শুধু নিঃশব্দে জানিয়ে গেলেন যে, শহরে অসুররা থাকলে মা দুর্গাও আছে।

শনিবার রাতে আনন্দপুর থানা এলাকার আর আর প্লটের একটি আবাসনের সামনে ঘটনাটি ঘটেছে। যে তরুণীকে নীলাঞ্জনা দেবী বাঁচিয়েছেন তিনি এখনও ট্রমার মধ্যে রয়েছেন। তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গিয়েছে, এই তরুণী একজন ব্যাঙ্ক কর্মী। যে অভিযুক্ত তার নাম অমিতাভ বসু। কয়েক মাস আগে সোশ্যাল মিডিয়ার(social media) মাধ্যমে অমিতাভের সঙ্গে এই তরুণীর আলাপ হয়। পঞ্চসায়র এর বাসিন্দা ওই তরুণীর সঙ্গে ধীরে ধীরে অমিতাভের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শনিবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ তারা প্রথমবার দেখা করেন। অনেক রাত হয়ে যাওয়ার পর ওই তরুণী যখন বাড়ি ফিরতে চায় তখন অমিতাভ বাধা দেয়। তরুণীর অভিযোগ, গাড়ির ভিতরে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারতে শুরু করে অমিতাভ। এমনকি তার শ্লীলতাহানি(molestation)ও করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে সেই সময় নীলাঞ্জনা দেবী তার স্বামী দীপ শতপথী ও মেয়ের সঙ্গে মায়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠান শেষে ওই আবাসন থেকেই বেরিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। আবাসনের সামনে নিজেদের দাঁড় করানো গাড়ির পিছনের থেকেই হঠাৎ ওই নির্যাতিতা তরুণী আর্তনাদ ভেসে আসে।

সঙ্গে সঙ্গে স্বামী ও স্ত্রী মিলে নিজেদের গাড়িটিকে পিছনের গাড়ির সামনে আড়াআড়ি ভাবে দাঁড় করিয়ে দেন। এরপর নীলাঞ্জনা গাড়ি থেকে নেমেই পিছন দিকের গাড়িটিকে ধাওয়া করতে ছোটেন। নীলাঞ্জনাকে এগিয়ে আসতে দেখে অমিতাভ তখন ওই তরুণীকে ধাক্কা মেরে গাড়ি থেকে মাটিতে ফেলে দেয়। নীলাঞ্জনা দেবী ওই তরুণীকে দৌড়ে তুলতে যেতে গেলে এই অমিতাভ সোজা গাড়ি নিয়ে এসে নীলাঞ্জনা দেবীর পায়ে ধাক্কা মারে এবং তার পায়ের উপর দিয়েই গাড়িটা চালিয়ে দেয়।

নিজের পায়ে অসহ্য যন্ত্রণা নিয়েও নির্যাতিতা তরুণী কে চিকিৎসা করানোর জন্য কোনো অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে নীলাঞ্জনা দেবী নিজে ১০০ নম্বরে ডায়াল করেন। পাঁচ মিনিটের মধ্যে কসবা ট্র্যাফিক গার্ডের এক সার্জেন্ট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কলকাতা পুলিশের ট্রমা কেয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে চাপিয়ে নীলাঞ্জনাকে বাইপাসের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। ঘটনাস্থলে পৌঁছে আনন্দপুর থানার পুলিশ ওই তরুণীকেও উদ্ধার করে।

শহরে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে বরাবরই প্রশ্ন উঠেছে। যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একজন মহিলা সেই রাজ্যে নারী সুরক্ষার (Women security)হার এত তলানীতে কেন সেই নিয়ে বিতর্কে তোলপাড় হয়েছে সমস্ত মহল। তবুও এই ঘটনায় আবার প্রমাণ দিয়ে গেল যে, এই শহরের নারীদের মধ্যে মা দুর্গার সত্ত্বা পুরোপুরি বিরাজমান।

RELATED Articles

Leave a Comment