আলিপুর বিদ্যাসাগর কলোনিতে নেমেছে শোকের ছায়া। আলো উৎসবের আনন্দকে যেন গ্রাস করে নিয়েছে এক মর্মান্তিক খবর। ১১ বছর বয়সি এক কিশোরীকে অচৈতন্য অবস্থায় ঘরের আলমারির ভিতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে বিষয়টি বুঝে উঠতে না পারলেও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মেয়েটি আর নেই। এলাকার প্রতিটি পরিবার আজ সেই একটাই প্রশ্ন করছে— এত ছোট মেয়ে কি নিজেই এমনটা করতে পারে? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে আরও অন্ধকার কোনও কারণ?
ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার রাতে। পরিবারের সদস্যরা জানান, মেয়েটিকে দীর্ঘক্ষণ ঘরে না দেখে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। এরপরই আলমারির ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় কিশোরীর দেহ চোখে পড়ে এক আতঙ্কিত পরিবারের। তখনও প্রাণ ছিল, তেমনটাই মনে করেন তাঁরা। ওই অবস্থায় কিশোরীকে তড়িঘড়ি এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে সোমবার সকালের পরই ঘোষণা আসে, ছোট্ট শিশুটি আর নেই।
পরিবারের ভিতর থেকে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। মৃত কিশোরী হলেন আরজি করকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত সঞ্জয় রায়ের ভাগ্নি— অর্থাৎ বড় দিদির মেয়ে। মেয়েটির মা বছর কয়েক আগে আত্মঘাতী হন বলে পরিবার সূত্রে জানা যায়। এরপর কিশোরীর বাবা বিয়ে করেন সঞ্জয়ের ছোট দিদিকে। সেই বাড়িতেই থাকত মেয়েটি। কিন্তু এই পারিবারিক সম্পর্কের জটের মধ্যেই কোথাও যেন হারিয়ে যাচ্ছিল শিশুটির হাসি। ঠাকুমার অভিযোগ, ‘‘আমায় ওরা বাড়িতে ঢুকতে দিত না। মেয়েটাও আমার সঙ্গে দেখা করতে চাইত, কিন্তু পারত না।’’
এই মৃত্যুর পর থেকেই নানা প্রশ্ন ঘুরছে প্রতিবেশীদের মুখে। এমন এক কিশোরী, যার বয়সই মাত্র ১১, সে কি সত্যিই নিজের হাতে গলায় দড়ি দিতে পারে? নাকি কেউ তাঁকে বাধ্য করেছে? ঠাকুমা বলছেন, ‘‘এক মাস হল ওর জন্মদিন পালানো হয়েছে। এমন উচ্ছ্বসিত মেয়েটি কীভাবে এমন করল?’’ সন্দেহের তীর উঠেছে পরিবারের সম্পর্ক, অতীতের অস্থিরতা, এমনকি নির্যাতনের সম্ভাবনাতেও।
আরও পড়ুনঃ Kalipuja 2025 : কালীপুজোর নামে কালীপ্রকোপ! মানিকতলায় চাঁদার জুলুমে র*ক্তাক্ত শিল্পী, কাঠগড়ায় ক্লাব সংস্কৃতি!
ঘটনার তদন্তে নেমেছে আলিপুর থানার পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় গোটা এলাকা। পুলিশ ইতিমধ্যেই কিশোরীর দেহ মর্গে পাঠিয়েছে এবং পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। আত্মহত্যা না খুন— সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে রিপোর্ট হাতে এলেই। ততদিন পর্যন্ত আলিপুরের বিদ্যাসাগর কলোনিতে এক গভীর নীরবতা, যেন প্রতিটি মুখে একই আর্তি— কেন এমন হল ছোট্ট মেয়েটির সঙ্গে?





