TMC Digital Joddha: রাজনীতি বদলে গেছে, লড়াই এখন মোবাইলের স্ক্রিনে! ময়দানে নামছে তৃণমূল, তরুণদের সঙ্গে নিয়ে ডিজিটাল যুদ্ধের ডাক দিলেন অভিষেক

রাজনীতি এখন কেবল মাঠে-ঘাটে সীমাবদ্ধ নয়। লড়াইয়ের মঞ্চ বদলে গিয়েছে, স্থান পেয়েছে মোবাইলের স্ক্রিনে। সেই নতুন ময়দানে নামছে তৃণমূল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার ডিজিটাল প্রচারের এক নতুন অধ্যায় শুরু করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কর্মসূচির নাম— “আমি বাংলার ডিজিটাল যোদ্ধা”। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দল চাইছে তরুণ প্রজন্মকে পাশে নিয়ে অনলাইন দুনিয়ায় শক্ত ঘাঁটি গড়ে তুলতে।

রাজ্যজুড়ে বুথ সংগঠনে তৃণমূল বরাবরই শক্তিশালী। লোকসভা, বিধানসভা, পঞ্চায়েত— সর্বত্রই তাদের প্রভাব বিস্তার। এতদিন দলের নেতারা দাবি করতেন, বিজেপি বা সিপিএম শুধু ফেসবুক আর এক্সে সীমাবদ্ধ, বাস্তবে বুথে তাদের দেখা যায় না। কিন্তু এখন খেলা ঘুরেছে। অভিষেক বুঝেছেন, রাজপথের লড়াইয়ের মতোই ডিজিটাল স্পেসেও যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। তাই এই নতুন অভিযান— যেখানে প্রতিটি বুথে অন্তত দশজন করে তরুণকে তৈরি করা হবে ‘ডিজিটাল সৈনিক’ হিসেবে।

তৃণমূল ইতিমধ্যেই এই কর্মসূচির জন্য তৈরি করেছে একটি ওয়েবসাইট। আগ্রহীরা সেখানে নিজেদের নাম, ফোন নম্বর, জেলা এবং বিধানসভা কেন্দ্রের তথ্য দিয়ে নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন। অভিষেক এক ভিডিও বার্তায় বলেন, “রাজপথে যেমন লড়াই চলছে, তেমনই চলছে ডিজিটাল দুনিয়াতেও। বাংলা-বিরোধীরা প্রতিদিন অপপ্রচার চালাচ্ছে। এবার মোবাইলের স্ক্রিনেই হবে পাল্টা জবাব।” যাঁরা এই ডিজিটাল যোদ্ধা হবেন, তাঁদের তিনি ‘সেনা’ বলেই আখ্যা দিয়েছেন।

এই উদ্যোগের পিছনে স্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। বিজেপি ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে প্রথম দেখিয়েছিল, সমাজমাধ্যম কতটা শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে। তাদের আইটি সেল তখন রাজনৈতিক প্রচারে নতুন অধ্যায় শুরু করেছিল। পরে প্রায় সব দলই সেই পথেই হাঁটতে বাধ্য হয়। তৃণমূলেরও নিজস্ব আইটি সেল আছে, কিন্তু অভিষেক চান এই প্রচার আরও সংগঠিত, পেশাদার এবং ব্যাপক হোক— বিশেষ করে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে। ভিডিও এডিটিং, গ্রাফিক্স বা কনটেন্ট তৈরিতে দক্ষ তরুণ-তরুণীদের বিশেষভাবে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

তৃণমূল সূত্রে জানা গেছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সরাসরি দলীয় প্রচারের পাশাপাশি এমন পেজ বা হ্যান্ডলও তৈরি হবে, যেগুলি অন্যভাবে বার্তা পৌঁছে দেবে। অর্থাৎ, যেখানে দল যা বলতে পারে না, সেখানে এই হ্যান্ডলগুলি বিকল্প ভাষায় সেই কথাই ছড়িয়ে দেবে। রাজনৈতিক বার্তাকে নতুন আঙ্গিকে, নতুন ধারায় জনতার কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

আরও পড়ুনঃ Kanchan Mullick: “রাস্তাগুলো হচ্ছে শেষ, বিধায়ক আমার নিরুদ্দেশ!”— কাঞ্চন মল্লিকের নামে পোস্টার পড়তেই চাঞ্চল্য উত্তরপাড়ায়, ভোটের মুখে তুঙ্গে রাজনীতি!

সব মিলিয়ে স্পষ্ট— অভিষেকের নেতৃত্বে তৃণমূল এখন মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি প্রস্তুত অনলাইন যুদ্ধেও। রাজনীতি যখন ক্রমে ডিজিটালে ঝুঁকছে, তখন “আমি বাংলার ডিজিটাল যোদ্ধা” শুধু একটি কর্মসূচি নয়, দলের ভবিষ্যতের কৌশলগত বিনিয়োগ। এবার দেখা যাক, এই ডিজিটাল সেনারা কতটা বদলে দিতে পারেন রাজনীতির খেলা।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles