নৈহাটির ভোটার তালিকায় এক পাকিস্তানি নাগরিকের নাম উঠেছে—এই অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। বিষয়টি সামনে এনেছেন ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ ও বিজেপি নেতা অর্জুন সিং। তাঁর দাবি, পাকিস্তানের করাচির বাসিন্দা এক মহিলা শুধু যে দীর্ঘদিন ধরে নৈহাটিতে বসবাস করছেন তা-ই নয়, তিনি ভোটার তালিকায়ও নাম তুলেছেন। নির্বাচনের আগে এমন ঘটনায় প্রশাসন থেকে রাজনৈতিক মহল—সব জায়গায়ই প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে বিদেশি নাগরিকের নাম ভারতীয় ভোটার তালিকায় উঠল?
অর্জুন সিংয়ের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই মহিলার নাম সালেয়া খাতুন। বর্তমানে তিনি নৈহাটি বিধানসভার এ টি ঘোষ লেনে থাকেন। তবে জন্মসূত্রে তিনি পাকিস্তানের নাগরিক। তাঁর মেয়ে এখনও পাকিস্তানি পাসপোর্ট বহন করেন। তবুও বাংলার ভোটার তালিকায় সালেয়ার নাম রয়েছে বলে অভিযোগ বিজেপি নেতার। অর্জুন বলেন, “ইনি করাচির নাগরিক। মেয়েরও পাকিস্তানের পাসপোর্ট আছে। অথচ ভোটার তালিকায় নাম উঠেছে, ভোটও দিচ্ছেন। এটা কীভাবে সম্ভব?” প্রাক্তন সাংসদ আরও জানিয়েছেন, তিনি নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দফতরে বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছেন এবং দ্রুত পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন।
আরও পড়ুনঃ TMC Digital Joddha: রাজনীতি বদলে গেছে, লড়াই এখন মোবাইলের স্ক্রিনে! ময়দানে নামছে তৃণমূল, তরুণদের সঙ্গে নিয়ে ডিজিটাল যুদ্ধের ডাক দিলেন অভিষেক
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই নৈহাটির স্থানীয় রাজনীতিতে চাঞ্চল্য। এমনকি তৃণমূল বিধায়ক সনৎ দেও সালেয়ার পাকিস্তান যোগের বিষয়টি অস্বীকার করেননি। তিনি বলেন, “ভোটার কার্ড দেয় নির্বাচন কমিশন, এটা আমাদের হাতে নয়। সালেয়া সত্যিই পাকিস্তানের নাগরিক ছিলেন। প্রায় ২৮ বছর আগে নৈহাটিতে বিয়ে করে এসেছেন। ভোটার কার্ডের সত্যতা কমিশনই খতিয়ে দেখুক।” তাঁর এই মন্তব্যে কার্যত অর্জুন সিংয়ের দাবি একপ্রকার মেনে নেওয়া হয়েছে বলেই মনে করছে বিরোধী শিবির।
পৌঁছান, তাঁর স্বামী মহম্মদ ইমরান স্ত্রীকে ক্যামেরার সামনে আনতে রাজি হননি। তবে তিনিও স্বীকার করেছেন, “১৯৯১ সালে উনি করাচি থেকে এখানে এসেছেন। ভোটার তালিকায় নাম ওঠে ২০০৮ সালের আগেই। তখন থেকেই ভোট দিচ্ছেন।” জানা গেছে, সালেয়ার পাসপোর্ট ইতিমধ্যেই প্রশাসনের উদ্যোগে বাতিল করা হয়েছে। পাকিস্তান ও ভারতের কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে তাঁর ভিসাও নবীকরণ হয়নি। ফলে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই তিনি দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করছেন।
আরও পড়ুনঃ TMC Digital Joddha: রাজনীতি বদলে গেছে, লড়াই এখন মোবাইলের স্ক্রিনে! ময়দানে নামছে তৃণমূল, তরুণদের সঙ্গে নিয়ে ডিজিটাল যুদ্ধের ডাক দিলেন অভিষেক
এখন প্রশ্ন উঠছে, প্রশাসন এতদিন কী করছিল? কীভাবে বিদেশি নাগরিকের নাম ভোটার তালিকায় উঠল, তা খতিয়ে দেখার দাবি তুলেছে বিজেপি। অন্যদিকে সালেয়ার পরিবারের বক্তব্য, তিনি প্রায় তিন দশক ধরে ভারতে আছেন, এখানেই সংসার গড়েছেন। তাই মানবিকতার খাতিরে তাঁকে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হোক। কিন্তু রাজনীতির উত্তাপে সেই আবেদন আদৌ শোনা হবে কি না, সেটাই এখন সময়ের অপেক্ষা।





“হিরণের বাড়িতে দু’টো বউ, সোহমের কিন্তু একটাই বউ…” দলীয় প্রার্থীর প্রশংসা করে, বিপক্ষ তারকা প্রার্থীকে খোঁচা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের! নির্বাচনের প্রাক্কালে শাসকদল বনাম বিজেপির সংঘাতে উত্তেজনা তুঙ্গে!