Amit Malviya on Newtown fire: নিউটাউনের আগুনে ভোটার রাজনীতি! ‘নাম ফেরাতেই বস্তি পোড়ানো’— মালব্যর বিস্ফোরক অভিযোগে তৃণমূল-বিজেপি-তে মুখোমুখি সংঘর্ষ!

নিউটাউনের ঘুনি বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। শীতের সন্ধ্যায় চোখের সামনে শতাধিক ঝুপড়ি ভস্মীভূত হয়ে যাওয়ার সেই দৃশ্য শুধু স্থানীয়দের মধ্যেই আতঙ্ক ছড়ায়নি, বরং নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে এই আগুনের নেপথ্য কারণ নিয়ে। ঠিক এমন সময়েই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা, যেখানে একে অপরের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলছে শাসক ও বিরোধী শিবির। কীভাবে, কেন এবং কাদের স্বার্থে এই অগ্নিকাণ্ড— সেই উত্তর খুঁজতেই এখন তাকিয়ে গোটা রাজ্য।

ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরব হয় বিজেপি। দলের আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসকে কাঠগড়ায় তোলেন। মালব্যর দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া বা এসআইআর (SIR) শুরুর আগেই ইচ্ছাকৃতভাবে এই আগুন লাগানো হয়েছে। তাঁর কথায়, খসড়া ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়ার বিষয়টি ধামাচাপা দিতেই এই কাণ্ড। “ভোটার তালিকায় ফের নাম তুলতেই আগুন লাগিয়েছে তৃণমূল,”— এমনই অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এটি পরিকল্পিত কারসাজি এবং আগুন নিয়ে ভয়ঙ্কর রাজনীতি করছে শাসকদল।

বিজেপির এই দাবির পাল্টা দিতে দেরি করেনি তৃণমূল কংগ্রেস। এক সাক্ষাৎকারে রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমাদার বিজেপির অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন। তাঁর বক্তব্য, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ইস্যু নিয়ে রাজনীতি করা বিজেপির পুরনো অভ্যাস। উল্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, তড়িঘড়ি করে বস্তি পুড়িয়ে তৃণমূলের ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা বিজেপিই করছে না তো? জয়প্রকাশের দাবি, অমিত মালব্য যে দেড় কোটি রোহিঙ্গা থাকার কথা বলছেন, তার কোনও প্রতিফলন এসআইআর-এর খসড়া তালিকায় নেই। তাহলে মিথ্যা ন্যারেটিভ তৈরি করে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে কেন— সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

এই বিতর্কের আবহে ফিরে দেখা যাক ঘটনার পটভূমি। নিউটাউনের ইকো পার্ক সংলগ্ন ঘুনি বস্তি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। এসআইআর-এর প্রস্তুতি শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন সংবাদে উঠে আসে ওই এলাকার নাম। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি ছিল, বস্তিতে থাকা বহু মানুষই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। এমন পরিস্থিতিতে বুধবার সন্ধ্যায় আচমকাই আগুন লাগে ঝুপড়িগুলিতে। মুহূর্তের মধ্যেই একের পর এক ঘর জ্বলে ছাই হয়ে যায়, বহু পরিবার কার্যত সর্বস্ব হারায়।

আরও পড়ুনঃ TMC : “কারও আচরণে যেন দলের ভাবমূর্তি নষ্ট না হয়” — মহুয়া-রচনার প্রসঙ্গে কড়া সতর্কবার্তা অভিষেকের!

সব মিলিয়ে নিউটাউনের এই অগ্নিকাণ্ড এখন শুধু একটি দুর্ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ভোটার তালিকা, অনুপ্রবেশ, এসআইআর এবং রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা— সবকিছু মিলিয়ে বিষয়টি নিয়েছে বড় আকার। বিজেপি ও তৃণমূল একে অপরকে দোষারোপ করলেও এখনও পর্যন্ত আগুন লাগার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট নয়। তদন্তের দিকেই এখন তাকিয়ে স্থানীয় মানুষ থেকে শুরু করে রাজ্যবাসী, কারণ রাজনৈতিক চাপানউতোরের বাইরে গিয়ে এই প্রশ্নের উত্তরই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন— আসলে আগুনটা লাগল কীভাবে?

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles