Amit Shah : এপ্রিলে ভোট, দুই-তৃতীয়াংশ আসনের দাবি—কলকাতায় এসে তৃণমূলকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ অমিত শাহের!

রাজনৈতিক উত্তাপ যে ধীরে ধীরে বাড়ছে, তার ইঙ্গিত মিলছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। তবে সেই উত্তাপ একেবারে প্রকাশ্যে এনে দিল কলকাতার এক সাংবাদিক সম্মেলন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কথায় ফের ঘুরতে শুরু করল বাংলার আগামী বিধানসভা নির্বাচন, ক্ষমতার অঙ্ক আর রাজনৈতিক সমীকরণ। যদিও প্রথমে তিনি সরাসরি ভোট বা ফলের কথা না বললেও, তাঁর বক্তব্যের প্রতিটি লাইনে ছিল স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে চর্চা শুরু হয়েছে।

কলকাতায় ‘বঙ্গভূমি’তে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অমিত শাহ ঘোষণা করেন, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট হবে। নির্বাচন কমিশনের তরফে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও না এলেও, একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এভাবে ভোটের সময়সীমা ঘোষণা করায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করে রাজনৈতিক মহলে। পাশাপাশি তিনি জানিয়ে দেন, কোন অঙ্কে বিজেপি আগামী নির্বাচনে ক্ষমতা দখল করতে চলেছে। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ভোটের হার এবং আসন সংখ্যা যেভাবে বেড়েছে, তাতে ২০২৬ সালে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয় পাওয়া অসম্ভব নয়।

এরপর নিজের বক্তব্যে তিনি তুলে ধরেন রাজ্যে বিজেপির রাজনৈতিক যাত্রাপথ। অমিত শাহের কথায়, ২০১৪ সালে বাংলায় বিজেপির ভোট শতাংশ ছিল ১৭, আসন মিলেছিল মাত্র ২টি। পরবর্তী সময়ে সেই সংখ্যা ধীরে ধীরে বেড়েছে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি পেয়েছিল ৪১ শতাংশ ভোট ও ১৮টি আসন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট শতাংশ দাঁড়ায় ৩৮ এবং আসন সংখ্যা হয় ৭৭। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে ৩৯ শতাংশ ভোট পেলেও আসন কমে দাঁড়ায় ১২-তে। শাহের দাবি, এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি প্রমাণ করে, মানুষ পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত।

ভাষণের একেবারে গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে ছিল অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলার সীমান্ত দিয়ে যে অনুপ্রবেশ হচ্ছে, তা শুধু রাজ্যের সমস্যা নয়, গোটা দেশের নিরাপত্তার প্রশ্ন। তাঁর কথায়, “এমন সরকার দরকার, যারা সীমান্ত এমনভাবে সুরক্ষিত করবে যে মানুষ তো দূরের কথা, একটা পাখিও যেন অবৈধভাবে ঢুকতে না পারে।” একইসঙ্গে তিনি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ‘সিন্ডিকেট’ সংস্কৃতির অভিযোগ তোলেন এবং বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে প্রশাসনে স্বচ্ছতা ফিরবে।

আরও পড়ুনঃ Donald Trump : “যুদ্ধ থামালেও স্বীকৃতি নেই?” ভারত-পাক ইস্যুতে নেতানিয়াহুর কাছে ‘অভিযোগ’ ডোনাল্ড ট্রাম্পের!

ভাষণের শেষভাগে বাঙালি আবেগে ছোঁয়ার চেষ্টা করেন অমিত শাহ। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এই দিনটি ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি তিনি আশ্বাস দেন, ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল বিজেপি সরকার গঠন করলে বাংলার সংস্কৃতি ও গৌরবের পুনর্জাগরণ ঘটবে। যদিও শাহের এই সফর ও বক্তব্যকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, “এটা অমিত শাহের আরেকটা ব্যর্থ বঙ্গসফর।” সব মিলিয়ে, ভোট এখনও বাকি থাকলেও, বাংলার রাজনীতিতে লড়াই যে এখন থেকেই তুঙ্গে—তা স্পষ্ট।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles