দেশের রাজনীতিতে অনুপ্রবেশকারী ইস্যু নতুন নয়। তবে এই ইস্যুকে ঘিরে যখন কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সরাসরি বাকযুদ্ধ শুরু হয়, তখন তা শুধু রাজনৈতিক বিতর্কে সীমাবদ্ধ থাকে না, ছড়িয়ে পড়ে জাতীয় নিরাপত্তা থেকে প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রশ্ন পর্যন্ত। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে এসে অনুপ্রবেশকারী নিয়ে রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তোলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আর সেখান থেকেই নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দিল্লি-কলকাতা রাজনৈতিক সংঘাত। এই আবহেই তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রী পর্যন্ত, পাল্টা প্রশ্নে বিদ্ধ করতে শুরু করেন কেন্দ্রকে।
নয়াদিল্লি যাওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সরাসরি অমিত শাহকে আক্রমণ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর প্রশ্ন, অনুপ্রবেশ কি শুধুই বাংলার সমস্যা? পহেলগাম বা দিল্লিতে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর দায় তাহলে কে নেবে? অভিষেকের স্পষ্ট বক্তব্য, দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দায়িত্ব যাঁর হাতে, সেই অমিত শাহকেই এই প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। কারণ ওই সব জায়গায় তো তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার নেই। এখান থেকেই তাঁর কটাক্ষ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষায়, স্বাধীনতার পর ভারতের “সবচেয়ে ব্যর্থ এবং অপদার্থতম” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলেন অমিত শাহ। তাঁর দাবি, বিজেপির সাংসদদের একাংশ নিজেরাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ঘুসপেটিয়া বলে আক্রমণ করেন। অথচ সেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই বাংলায় এসে অনুপ্রবেশ আটকানোর কথা বলছেন। অভিষেক মনে করিয়ে দেন, ২০১৪ সাল থেকে কেন্দ্রে বিজেপি ক্ষমতায় এবং গত ছয় বছর ধরে অমিত শাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ফলে দেশের কোথাও যদি অনুপ্রবেশ ঘটে থাকে, তার সম্পূর্ণ দায় কেন্দ্রকেই নিতে হবে। দায় এড়িয়ে অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা যাবে না বলেই তাঁর মত। এখানেই তিনি পদত্যাগের দাবিও তোলেন।
তবে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে পিছিয়ে থাকেননি অমিত শাহ। কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি জানান, সীমান্ত সুরক্ষার পরিকাঠামো গড়তে রাজ্য সরকারের কাছে জমি চেয়েও তা পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রীকে সাতটি চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং গত ছয় বছরে স্বরাষ্ট্রসচিব তিনবার বাংলায় এসে বৈঠকও করেছেন। তা সত্ত্বেও জমি না মেলায় কাজ এগোচ্ছে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত, এই ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই।
আরও পড়ুনঃ Amit Shah : এপ্রিলে ভোট, দুই-তৃতীয়াংশ আসনের দাবি—কলকাতায় এসে তৃণমূলকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ অমিত শাহের!
কেন্দ্রের এই দাবির পাল্টা দিতে এক মুহূর্ত দেরি করেননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাজ্য যদি জমিই না দিত, তাহলে রেললাইন কিংবা কয়লা প্রকল্প কীভাবে হয়েছে? তাঁর আরও কটাক্ষ, অনুপ্রবেশ কি শুধুই বাংলায় হয়? কাশ্মীরে হয় না? এরপরেই তিনি পহেলগামে জঙ্গি হামলার প্রসঙ্গ তুলে জানতে চান, সেখানে কেন্দ্রীয় সরকার কী করছিল? এই প্রশ্নের মধ্য দিয়েই স্পষ্ট হয়ে যায়, অনুপ্রবেশ ইস্যুতে দায় কার—তা নিয়ে রাজনৈতিক সংঘাত এখন আরও তীব্র, আর এই বিতর্ক থামার কোনও ইঙ্গিত আপাতত নেই।





