আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা যেন প্রতিদিন নতুন করে নাড়া দিচ্ছে শহরকে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একের পর এক দেহাংশ উদ্ধারের সঙ্গে সঙ্গে সামনে আসছে এমন সব তথ্য, যা গোটা ঘটনাকে আরও ভয়ঙ্কর করে তুলছে। আগুনে ঝলসে যাওয়া একটি মোমো কারখানা ও গুদাম—শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি পরিণত হচ্ছে এক মর্মান্তিক মানবিক বিপর্যয়ে। ঘটনার পাঁচদিন পরেও থামেনি উদ্ধারকাজ, থামেনি তদন্তও।
এই ঘটনার তদন্তে এবার বড়সড় অগ্রগতি। আনন্দপুরের মোমো কারখানা ও গুদামে আগুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরও দু’জনকে। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই মোমো সংস্থার ম্যানেজার মনোরঞ্জন শিট এবং ডেপুটি ম্যানেজার রাজা চক্রবর্তীকে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। আগেই এই ঘটনায় ডেকরেটর সংস্থার মালিক গঙ্গাধর দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার রাতে নরেন্দ্রপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই দুই আধিকারিককে পাকড়াও করেন তদন্তকারীরা।
ধৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। শুক্রবার তাঁদের বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হবে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, দু’জনকেই নিজেদের হেপাজতে নিয়ে ধারাবাহিক জেরা করার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানাবে পুলিশ। এর আগেই মঙ্গলবার নরেন্দ্রপুরের এলাচি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় গঙ্গাধর দাসকে। বুধবার তাঁকে বারুইপুর আদালতে পেশ করে পুলিশ হেপাজতে নেয়। ৪ ফেব্রুয়ারি ফের আদালতে তোলা হবে তাঁকে। তার আগেই কারখানা ও গুদামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, দায়িত্ব বণ্টন এবং ঘটনার দিনের পরিস্থিতি নিয়ে জোরদার জেরা চলছে।
তদন্তে উঠে আসা প্রাথমিক তথ্য আরও শিউরে ওঠার মতো। জানা যাচ্ছে, অগ্নিকাণ্ডের রাতে কারখানা ও গুদামের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ ছিল। আগুন লাগার পর ভিতরে থাকা শ্রমিকরা মরিয়া হয়ে বেরনোর চেষ্টা করলেও দরজা বন্ধ থাকায় তাঁরা বেরোতে পারেননি। প্রত্যক্ষদর্শী ও তদন্ত সূত্রে এমনও তথ্য মিলেছে, আগুনের মাঝেই কয়েকজন শ্রমিক বাড়ির লোকেদের ফোন করে নিজেদের আসন্ন মৃত্যুর কথা জানিয়েছিলেন। প্রশ্ন উঠছে—কেন ভিতরে শ্রমিকদের রেখে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করা হয়েছিল? সেই রাতে কারখানার দায়িত্বে কারা ছিলেন?
আরও পড়ুনঃ J&K Villagers saved 20 Army : প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে পাহাড়ে মানবিক যুদ্ধ! ডোডায় জীবন বাজি রেখে আটকে পড়া সেনাদের উদ্ধার স্থানীয়দের!
এই অগ্নিকাণ্ডের পর ধ্বংসস্তূপকে অনেকেই ‘জতুগৃহ’ বলে উল্লেখ করছেন। পাঁচদিনে এখনও পর্যন্ত মোট ২৫টি দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে বলে খবর। সম্প্রতি আরও চারটি দেহাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। দেহাংশগুলির পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা শুরু হয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে বুধবার রাত থেকেই নাজিরাবাদ এলাকায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে, যা বলবৎ থাকবে আগামী ৩০ মার্চ পর্যন্ত। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে—এই আগুন নিছক দুর্ঘটনা নয়, এর নেপথ্যে রয়েছে গুরুতর গাফিলতি ও অমানবিক অবহেলার ছায়া।





