কলকাতা (kolkata) শহর মানেই ব্যস্ততা, কোলাহল, মানুষের ভিড়। এখানে প্রতিদিন লাখো মানুষ জীবিকার খোঁজে আসে, কেউ ব্যবসা করতে, কেউ চাকরির জন্য। তবে এই শহর শুধু স্বপ্নের নয়, কখনও কখনও আতঙ্কেরও। বড়বাজার এলাকা তো এমনিতেই ব্যবসায়ীদের গহ্বর। সেখানেই বসবাস ছিল ভাগারাম সিংয়ের। রাজস্থানের পালির বাসিন্দা হলেও কলকাতার বড়বাজারে কাপড়ের ব্যবসা ছিল তার। কিন্তু সেই ব্যবসায়ীর সঙ্গেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটবে, কে জানত!
সাধারণত ব্যস্ত শহরে রাতের বেলাও একটা চাপা কোলাহল থাকে। নাগেরবাজার, দমদম কিংবা ঘোলা মহিষপোতা—এই এলাকাগুলোর মধ্যরাতেও এক অদ্ভুত রহস্য লুকিয়ে থাকে। কিন্তু সম্প্রতি, ঘোলা থানা এলাকায় এক রাতের অন্ধকারে যা ঘটল, তা গা শিউরে ওঠার মতো। এক ট্রলি ব্যাগ খুলতেই উদ্ধার হল এক যুবকের মৃতদেহ! কীভাবে পৌঁছল সেই দেহ? কেন খুন করা হল তাকে? সবটাই যেন একটা বড়সড় রহস্যের মতো দেখাচ্ছিল, কিন্তু আস্তে আস্তে সেই রহস্যের জট খুলতে শুরু করল পুলিস।
সূত্রের খবর, সেদিন রাতেই নাগেরবাজার থেকে দুজন ব্যক্তি একটি ক্যাব গাড়ি ভাড়া করে। প্রথমে সব কিছু স্বাভাবিক থাকলেও, গাড়িটি নিমতা হয়ে মুড়াগাছা ব্রিজ পার করার পর সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করে। কারণ, ওই দুই ব্যক্তি গাড়ির চালককে অন্ধকার এলাকায় গাড়ি দাঁড় করাতে বলে। ক্যাব চালক স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন করেন, কেন এখানে নামবেন? উত্তরে পাল্টা রাগ দেখায় ওই দুই ব্যক্তি। এই নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হতেই ঘটনাস্থলে হাজির হয় ঘোলা থানার টহলরত পুলিস ভ্যান। দুই অভিযুক্তের মধ্যে একজন তখনই পালিয়ে যায়, অন্যজনকে ধরে ফেলে পুলিস। জেরার মুখে পড়তেই অভিযুক্ত জানিয়ে দেয় এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। গাড়ির ডিকিতে একটি বড় ট্রলি ব্যাগ ছিল, যা দেখে সন্দেহ হয় পুলিসের। ব্যাগ খুলতেই যা বেরিয়ে আসে, তা দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান সবাই!
আরও পড়ুনঃ টিকা নিয়েই অকালমৃত্যু! কোভিড ভ্যাকসিন নিয়ে নতুন আতঙ্কে দেশ!
ট্রলি ব্যাগের ভিতরে ছিল একটি বড় বস্তা, সেটি সেলোটেপ দিয়ে মোড়ানো। সেটি খুলতেই দেখা যায় এক যুবকের নিথর দেহ। তার মুখেও শক্ত করে সেলোটেপ জড়ানো ছিল, যাতে কেউ চিৎকার শুনতে না পারে। পরে জানা যায়, মৃত যুবকের নাম ভাগারাম সিং, বড়বাজারের এক ব্যবসায়ী। জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে আরও ভয়ংকর তথ্য। অভিযুক্ত কৃষ্ণরাম সিং ও করণ সিং ভাগারামকে কফিতে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে খাইয়ে দেন। তারপর তার গলার নলি কেটে হত্যা করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত করতে আরও এক ধাপ এগিয়ে গলায় ফাঁসও দেওয়া হয়! খুনের পর তার দেহ ট্রলি ব্যাগে ভরে সরানোর পরিকল্পনা করেছিল অভিযুক্তরা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ধরা পড়ে যায় তারা।
পুলিসের তদন্তে জানা গেছে, ভাগারাম সিং ও অভিযুক্ত কৃষ্ণরাম ও করণ সিং প্রত্যেকেই রাজস্থানের বাসিন্দা। কর্মসূত্রে তারা কলকাতার গিরিশ পার্ক এলাকায় একসঙ্গে ভাড়া থাকত। ভাগারাম তাদের কাছ থেকে চুরিদারের পিস কিনত, কিন্তু ৮ লক্ষ টাকা দেনা হয়ে যায় তার। বহুদিন টাকা চাইতে গিয়েও না পাওয়ায় ক্ষোভ তৈরি হয় অভিযুক্তদের মনে। সেই রাগের বশেই খুনের ছক কষে তারা। অবশেষে, মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে মুক্তারামবাবু স্ট্রিট থেকে আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। বড়বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যেও এই ঘটনা নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শেষমেশ ৮ লক্ষ টাকার দেনা কি একজনের জীবন নিয়ে নিল? উত্তর খুঁজছে পুলিস।






