সপ্তাহের শুরুতেই যাত্রাপথে ছন্দপতন! সকালে কাজে বেরিয়ে অনেকেই বুঝতেই পারেননি, কী ভয়াবহ দুর্ভোগ তাঁদের জন্য অপেক্ষা করে আছে রাস্তায়। যেখানে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে বাসে করে পৌঁছনো যেত অফিস কিংবা কাজের জায়গায়, সেখানে সোমবার সকালে দাঁড়িয়ে থেকেও দেখা মেলেনি একটিও বাসের। কেউ পকেট ফাঁকা করে অটো-টোটোর দ্বারস্থ হচ্ছেন, কেউ বা একরকম জোর করেই ভাগাভাগি করে ব্যক্তিগত গাড়িতে পাড়ি দিচ্ছেন গন্তব্যের দিকে। অনিশ্চয়তার এক নয়া ছবি ধরা পড়ল আরামবাগে।
সোমবার সকালে আচমকাই বাস ধর্মঘটের ডাক দেয় আরামবাগ বাস মালিক অ্যাসোসিয়েশন। এর জেরে সকাল থেকেই গোটা বাস টার্মিনাস যেন গুমরে পড়ে থাকে নিরবতায়। যেখানে প্রতিদিন আরামবাগ থেকে দক্ষিণবঙ্গের বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বর্ধমান, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং কলকাতা গামী লোকাল ও এক্সপ্রেস মিলিয়ে প্রায় ৫০০টি বাস যাতায়াত করে, সেখানে সোমবার সকাল থেকেই একটিও বাস মেলেনি। ধর্মঘটের কারণে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের অনেকেই পড়েছেন চরম বিপাকে।
বাস মালিকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই বেআইনি অটো ও টোটোর দাপটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাঁদের ব্যবসা। নির্দিষ্ট বাসরুটে নিয়মভঙ্গ করে চলছে টোটো-অটো। এ নিয়ে একাধিকবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও কোনও স্থায়ী সমাধান মেলেনি বলেই দাবি সংগঠনের। সেই কারণেই, প্রশাসনের অনিচ্ছার প্রতিবাদে এবং সরকারি নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধেই তাঁরা এই অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের পথে হেঁটেছেন।
ধর্মঘটের জেরে নাজেহাল নিত্যযাত্রীরা। অনেকে বাস না পেয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি ভাড়া করে গন্তব্যে পৌঁছনোর চেষ্টা করছেন, তবে তার খরচও সাধারণ নাগরিকের নাগালের বাইরে। এক কর্মরত ব্যক্তি জানান, “হরিপাল থেকে প্রতিদিন এখান থেকেই বাসে উঠি, আজ একটাও বাস নেই। অন্য গাড়ি দু’শো টাকা ভাড়া চাইছে। এতটা তো কোনওদিন ভাবিনি।” অপর এক যাত্রী বলেন, “বাস না পেয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি ভাড়া করে এলাম। কিছুই করার নেই, অফিস তো মিস করা যাবে না।”
আরও পড়ুনঃ Santosh Mitra Square : রামমন্দিরের পর এবার ‘অপারেশন সিঁদুর’! দেশাত্মবোধে ভরপুর সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের পুজো থিম !
আরামবাগ বাস-মিনিবাস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বৈদ্যনাথ নন্দী জানিয়েছেন, “আমরা এক মাস আগে প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছিলাম। জেলাশাসকের কাছেও চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনও ব্যবস্থা না নেওয়াতেই বাধ্য হয়ে এই ধর্মঘটের পথে হাঁটতে হয়েছে।” তাঁর দাবি, “একসময় হুগলি জেলায় ১৭০০ বাস চলত। এখন তা নেমে এসেছে মাত্র ৫০০-তে।” মালিক সংগঠন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যতক্ষণ না বেআইনি টোটো-অটোর রমরমা বন্ধ হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই ধর্মঘট চলবে। ফলে এই অনিশ্চয়তা ঠিক কতদিন চলবে, তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছে সাধারণ মানুষ।





