রাজ্যের সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) সংক্রান্ত মামলা যেন শেষ হতে চাইছে না। বছর পেরিয়ে যাচ্ছে, আদালতের এক ঘর থেকে অন্য ঘরে ছুটে চলেছে মামলা। এই দীর্ঘ টানাপোড়েনের মাঝে ক্ষুব্ধ কর্মচারীরা, হতাশ সংগঠনের নেতারা। তবে এই জট খুলে ফেলার চাবিকাঠি রাজ্যের হাতেই ছিল না, দাবি উঠছে—কর্মচারীদের হাতে ছিল সমাধানের পথ!
কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ-এর সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায়ের দাবি, রাজ্য সরকার যদি আলোচনায় বসত, তাহলে বিষয়টি এতদূর গড়াত না। তিনি জানান, “আমরা রাজ্যকে বুঝিয়ে বলতে পারতাম—তাদের আর্থিক পরিস্থিতি অনুযায়ী কীভাবে ধাপে ধাপে বকেয়া মেটানো যায়। আলোচনা হলে কোটি কোটি টাকার মামলা করার দরকারই হতো না।”
মলয়বাবুর দাবি, “কর্মরতদের ক্ষেত্রে প্রভিডেন্ট ফান্ডে টাকা জমা দিয়ে এবং অবসরপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে মাসিক কিস্তিতে বকেয়া মেটানোর প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু সরকার সেই পথে হাঁটেনি, বরং মামলাকে আরও জটিল করেছে।” রাজ্যের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে রায়ের ব্যাখ্যা চেয়ে আবেদন করাকেই তিনি সময়ক্ষেপণ বলে কটাক্ষ করেছেন।
মলয় মুখোপাধ্যায়ের দাবি, “রূপা রুলস (ROPA Rules)-এ স্পষ্টভাবে বলা রয়েছে ডিএ দেওয়া বাধ্যতামূলক। এটা সুপ্রিম কোর্টের অজানা নয়। তাই নতুন করে সেখানে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন ছিল না।” তাঁর কথায়, রাজ্য সরকার একতরফাভাবে আলোচনার বদলে আইনি লড়াইয়ের রাস্তা বেছে নিয়েছে, ফলে কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ বেড়েছে এবং রাজ্যের কোষাগারও অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়েছে।
আরও পড়ুনঃ Arambagh : ১৭০০ থেকে নেমে ৫০০! বেআইনি টোটোর বিরুদ্ধে সরব বাস মালিক, ধর্মঘটে বিপর্যস্ত জনজীবন!
উল্লেখ্য, পঞ্চম বেতন কমিশনের ভিত্তিতে ডিএ না দেওয়ার অভিযোগে এই মামলা প্রথমে স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনালে (SAT), পরে কলকাতা হাইকোর্ট এবং বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে চলছে। ২০১৬ সাল থেকে এই আইনি লড়াই চলছে। স্যাটে প্রথমে রাজ্য সরকার জয় পেলেও, পরবর্তী প্রতিটি ধাপে জয় পেয়েছেন সরকারি কর্মচারীরা। প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায় আসেনি।





