রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের চড়েছে উত্তাপ। প্রতিবেশী দেশের সাম্প্রতিক অস্থিরতা টেনে বাংলার রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করলেন এক বিজেপি নেতা। সেই বক্তব্যকে ঘিরেই শুরু হয়েছে চরম বিতর্ক। শাসকদল থেকে বিরোধীপক্ষ দুই মহলেই চলছে তীব্র সমালোচনা।
বারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিং সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে যুবসমাজকে উদ্দেশ করে বলেন, “কবে বাংলার যুবসমাজ দুর্নীতিগ্রস্ত শাসনকে সরাতে জেগে উঠবে? বিনা রক্ত ঝরিয়ে কোনও পরিবর্তন সম্ভব নয়।” শুধু তাই নয়, তিনি যোগ করেন, “বেকার যুবকরা নেপাল থেকে শিক্ষা নিক। সেখানকার তরুণরা যেভাবে দেখিয়েছে, বাংলাতেও তার প্রয়োজন।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
অর্জুনের বক্তব্যের জেরে পাল্টা সুরে সরব হন বর্তমান বারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক। তাঁর অভিযোগ, এই মন্তব্য আসলে মুখ্যমন্ত্রীকে খুনের প্ররোচনা। পার্থ বলেন, “বাংলাদেশ একটি রাষ্ট্র, নেপাল একটি রাষ্ট্র, আর পশ্চিমবঙ্গ একটি রাজ্য। বাংলার যুবকদের নেপালের উদাহরণ টেনে উস্কানি দেওয়া মানে ভারতের সরকারের বিরুদ্ধেও একই বার্তা দেওয়া। এটা অত্যন্ত বিপজ্জনক।”
পার্থ ভৌমিকের দাবি, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী হলে এ ধরনের কথা বলা যায় না। তাঁর কথায়, “বাংলায় এভাবে রক্ত ঝরানোর কথা বলা মানেই পরোক্ষে মুখ্যমন্ত্রীকে হত্যার প্ররোচনা দেওয়া। এই ধরনের মন্তব্য প্রমাণ করে, অশিক্ষিতরা কথার মর্ম বোঝেন না।” তিনি আরও জানান, বিজেপি নেতার মন্তব্যের বিরোধিতা জানিয়ে ইতিমধ্যেই জেলার প্রায় সব থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
আরও পড়ুনঃ Narendra Modi : “নেপালে মোদীর মতো নেতৃত্বের প্রয়োজন”- নেপাল যুবকের মন্তব্যে বিতর্ক! বিজেপির নিশানায় কংগ্রেস!
অর্জুন সিংয়ের মন্তব্যে শাসকদল তৃণমূলের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভ বাড়ছে। বিরোধীপক্ষের বক্তব্যে যেখানে একদিকে ‘বদলের ডাক’ স্পষ্ট, অন্যদিকে শাসকদলের অভিযোগ এটি সরাসরি রাজ্যে হিংসার প্ররোচনা। ফলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই মন্তব্য নিয়ে আইনগতভাবে কী পদক্ষেপ নেয় প্রশাসন।





