হিমালয়ের দেশ নেপালে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলছে অস্থিরতা। দুর্নীতি, রাজনৈতিক টানাপোড়ন এবং প্রশাসনের অদক্ষতা নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে রাস্তায়। রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষ নেমে আসছে প্রতিবাদে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ক্ষুব্ধ বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে। এমন প্রেক্ষাপটেই সামনে এল একটি ভিডিও, যা ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সেই ভিডিওতে এক নেপালি যুবককে বলতে শোনা যায়—“আমাদের এমন নেতা চাই, যেমন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।” তার দাবি, যদি নেপালে মোদীর মতো দৃঢ়চেতা নেতৃত্ব থাকত, তবে দেশ আজকের মতো সংকটে পড়ত না, বরং অনেক এগিয়ে যেত। বক্তব্যে তিনি মোদীর শাসনকেই কার্যকরী নেতৃত্বের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
এই ভিডিওই পরে শেয়ার করেন বিজেপি নেতা অমিত মালব্য। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “কংগ্রেস অযথা টাকা খরচ করছে রাহুল গান্ধীকে জেনারেল জেড প্রজন্মের কাছে এক ধরনের ‘যৌন প্রতীক’ হিসেবে তুলে ধরতে। বাইক চালানো, পুশ-আপ করা বা ঘুরে বেড়ানো এসবের উপর ভরসা করছে তারা।” মালব্যর মতে, বাস্তবতা উল্টো। শুধু ভারতে নয়, প্রতিবেশী নেপালের তরুণরাও আজ মোদীর মতো নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা করছে।
প্রসঙ্গত, নেপালে গত কয়েক দিনে যে বিক্ষোভ ছড়িয়েছে, তার পিছনে রয়েছে বহু দিনের ক্ষোভ। সোশ্যাল মিডিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা, দুর্নীতির অভিযোগ এবং অর্থনীতির মন্দা—সব মিলিয়ে জনরোষ বাড়ছে। রাগান্বিত মানুষ সংসদ ভবন, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, এমনকি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ঘিরে বিক্ষোভ দেখায়। রাজনৈতিক দলের অফিস ও বহু নেতার বাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটে। শেষ পর্যন্ত এই উত্তাল আবহেই পদত্যাগে বাধ্য হন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অয়েল।
আরও পড়ুনঃ CPIM : “পোস্টারের পোজটিকেই কি লেনিন পোজ বলে?”—সিপিএমের অফিসিয়াল পেজের ছবি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্কের ঝড়!
অমিত মালব্যর পাশাপাশি বিজেপির অন্ধ্রপ্রদেশ শাখার সহ-সভাপতি বিষ্ণু বর্ধন রেড্ডিও ভিডিওটি শেয়ার করেন। তিনি লেখেন—“নেপালের তরুণদের কণ্ঠস্বরই পরিষ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে, মোদীজির মতো শক্তিশালী নেতৃত্বের প্রয়োজন।” তাঁর দাবি, গত ১১ বছরের মোদীর শাসন শুধু ভারতে নয়, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলেছে। ফলে অন্য দেশের তরুণরাও এমন নেতৃত্ব কামনা করছেন।





