Migrant Worker Murder: রুজির টানে রাজ্যের বাইরে গিয়ে খু*ন বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক, নীরবতা ঘিরে বাড়ছে সন্দেহ!

ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকদের মৃত্যু বা হেনস্থার খবর নতুন নয়। তবে প্রতিবারই এমন ঘটনা সামনে এলে নতুন করে প্রশ্ন উঠে যায় নিরাপত্তা নিয়ে। কাজের সন্ধানে নিজের রাজ্য ছেড়ে অন্য রাজ্যে যাওয়া মানুষগুলোর জীবনের মূল্য কি সত্যিই এতটাই কম? সম্প্রতি তেমনই এক রহস্যমৃত্যু ঘিরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে মুর্শিদাবাদের একটি গ্রামে। চেন্নাই থেকে ভেসে আসা সেই খবরে শোকস্তব্ধ পরিবার, আবার একই সঙ্গে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

ঘটনাটি তামিলনাড়ুর চেন্নাই শহরের তাম্বারাম এলাকার। সেখানে একটি বহুতল নির্মাণের কাজে নিযুক্ত ছিলেন মুর্শিদাবাদের সুতি থানা এলাকার যুবক আমাই মাঝি (২৮)। সোমবার সন্ধ্যায় ওই এলাকা থেকেই তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার হয়। প্রথমে বিষয়টি জানাজানি হয় তাঁর সঙ্গে থাকা অন্যান্য শ্রমিকদের মাধ্যমে। রাতের দিকে মৃত্যুর খবর পৌঁছয় বাড়িতে। ঠিক কীভাবে মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পরিবার ও গ্রামবাসীদের একাংশের দাবি, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং পরিকল্পিত খুন।

আমাই মাঝির বাড়ি সুতির হাড়োয়া পঞ্চায়েতের গাম্ভীরা গ্রামে। পেশায় রাজমিস্ত্রি এই যুবকই ছিলেন পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য। বৃদ্ধ মা, স্ত্রী এবং তিন নাবালক সন্তানকে নিয়ে তাঁর সংসার। কয়েক মাস আগেই কাজের তাগিদে তিনি চেন্নাইয়ে যান। পরিবারের দাবি, নিয়মিত ফোনে যোগাযোগ রাখতেন আমাই। কোনও অশান্তির কথা আগে কখনও জানাননি। হঠাৎ করে এই মৃত্যুর খবরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তাঁর স্ত্রী ও মা। চোখের জলেই এখন দিন কাটছে গোটা পরিবারের।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, চেন্নাইয়ে ইতিমধ্যেই আমাইয়ের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। দেহ গ্রামে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। এই ঘটনার আগে দিন কয়েক ওড়িশায় কাজ করতে গিয়ে সুতি থানার চক বাহাদুরপুর গ্রামের জুয়েল রানা নামে আর এক যুবকের খুনের ঘটনায় জেলা জুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। তার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের একই থানার এলাকার আর এক শ্রমিকের রহস্যমৃত্যু ঘিরে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

আরও পড়ুনঃ RG KAR case : আরজি কর আন্দোলনে ফাটল? অনিকেতের টাকা তোলা নিয়ে সোজাসাপ্টা আপত্তি তিলোত্তমার পরিবারের!

এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিজেপি শাসিত রাজ্যে পরিযায়ী হেনস্থার অভিযোগে যখন তৃণমূল সরব, ঠিক তখনই ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম শরিক এম কে স্ট্যালিনের রাজ্যে বাংলার শ্রমিকের মৃত্যু নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। বিরোধীদের প্রশ্ন, ভিন রাজ্যে কাজে যাওয়া শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ভূমিকা কোথায়? পাশাপাশি রাজ্যের কর্মসংস্থানের অভাব নিয়েও উঠছে কটাক্ষ। এখন শুধু আমাই মাঝির দেহ ফেরার অপেক্ষা—গাম্ভীরা গ্রামের প্রতিটি মানুষ, আর সর্বোপরি এক পরিবার, যারা আর কোনওদিন তাদের একমাত্র ভরসাটিকে ফিরে পাবে না।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles