IPAC ED raid : ইডি-সিবিআইয়ের বড় অভিযানের প্রস্তুতি?দিল্লি থেকে পালে পালে অফিসার, শাসক শিবিরে বাড়ছে অস্বস্তি!

কলকাতার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে গত কয়েক দিন ধরেই একটা চাপা উত্তেজনা টের পাচ্ছেন অনেকেই। শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে নবান্নের করিডর—সর্বত্রই একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, সামনে কি বড় কোনও কেন্দ্রীয় তদন্তের ঝড় আসছে? প্রকাশ্যে কেউ মুখ না খুললেও, আড়ালে আলোচনা থামছে না। কারণ, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ এমন এক জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে ছোট কোনও নড়াচড়াও বড় কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।

এই উৎকণ্ঠার সূত্রপাত মূলত আইপ্যাকের ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে ইডি-র সাম্প্রতিক অভিযানের পর। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে গুঞ্জন ছড়িয়েছে—গত কয়েক দিনে দিল্লি থেকে দু’শোর বেশি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী অফিসার কলকাতায় এসে পৌঁছেছেন। সূত্রের দাবি, তাঁদের রাখা হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারি হস্টেল ও শহরের একাধিক হোটেলে। সরকারি ভাবে অবশ্য এ নিয়ে কিছু বলা হয়নি। কিন্তু প্রশাসনিক মহলে এমন আলোচনা শুরু হয়েছে যে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই শহরে বড় কোনও তদন্তমূলক পদক্ষেপ দেখা যেতে পারে।

প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের ফ্ল্যাট ও সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে সেখানে পৌঁছন। সঙ্গে ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনার মনোজ ভার্মা-সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফেডারেল তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। সেই মামলায় রাজ্যের পুলিশ কর্তাদের নাম উঠে আসায় কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলির অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকে। এই প্রেক্ষাপটেই নতুন করে অভিযানের সম্ভাবনা ঘনীভূত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

রাজনৈতিক শিবিরে এই পরিস্থিতির প্রভাব স্পষ্ট। শাসক দলের একাংশের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে বেআইনি লেনদেন ও কয়লা পাচার সংক্রান্ত পুরনো মামলাগুলিতে ভোটের আগেই বড় গ্রেফতার হতে পারে। এমনকি কয়েক জন মন্ত্রী ও এক প্রভাবশালী নেতার ঘনিষ্ঠ সহযোগীর উপর নজরদারির কথাও শোনা যাচ্ছে। ওই সহযোগীকে আগেও কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা নোটিস পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন—এই তথ্য নতুন করে জল্পনা বাড়িয়েছে।

আরও পড়ুনঃ Migrant Worker Murder: রুজির টানে রাজ্যের বাইরে গিয়ে খু*ন বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক, নীরবতা ঘিরে বাড়ছে সন্দেহ!

অন্য দিকে, বিজেপি শিবিরে এই খবর নিয়ে চাপা উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাঁদের একাংশের বক্তব্য, আইন তার নিজের পথে চলুক, কাউকেই রেয়াত করা উচিত নয়। তবে দিল্লির সূত্র বলছে, ঠিক কার বিরুদ্ধে কখন কী পদক্ষেপ হবে, তা এখনও চূড়ান্ত নয়। তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে, কারণ এ ক্ষেত্রে নরম হলে তা ভবিষ্যতে নজির হয়ে যেতে পারে। ফলে কলকাতায় আসন্ন দিনগুলো যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে, সে কথা অস্বীকার করার জায়গা খুব কমই।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর