Kolkata : “সঙ্ঘকে অনুভব করতে হবে, টিকিটের জন্য কাজ নয়”— বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে বিজেপি–RSS -এর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা মোহন ভাগবতের!

কলকাতার মাটিতে দাঁড়িয়ে এমন এক সময় মোহন ভাগবতের বক্তব্য সামনে এল, যখন দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট একাধিক প্রশ্নে উত্তাল। ক্ষমতা, রাজনীতি আর সংগঠনের সম্পর্ক নিয়ে নানা জল্পনা দীর্ঘদিনের। ঠিক সেই আবহেই রবিবার সায়েন্স সিটিতে RSS-এর শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসে সঙ্ঘ প্রধান এমন কিছু কথা বললেন, যা শুধু সমর্থক নয়, সমালোচকদের দিকেও স্পষ্ট বার্তা দিল। প্রথমে সরাসরি রাজনীতির কথা না বললেও, তাঁর বক্তব্যের ভেতরেই ছিল সংগঠনের দর্শন ও লক্ষ্য নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ ব্যাখ্যা।

অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে মোহন ভাগবত জানিয়ে দেন, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘকে কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের চোখ দিয়ে দেখলে ভুল বোঝাবুঝি হবেই। তাঁর কথায়, সঙ্ঘের স্বয়ংসেবকেরা সমাজের নানা স্তরে কাজ করেন—কেউ শিক্ষক, কেউ চিকিৎসক, কেউ সমাজকর্মী, আবার কেউ রাজনীতিতেও যুক্ত। কিন্তু তার মানে এই নয় যে সঙ্ঘ কোনও রাজনৈতিক দলের সম্প্রসারণ। বিজেপির দৃষ্টিকোণ দিয়ে সঙ্ঘকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করলে তা ব্যর্থ হবে বলেই স্পষ্ট করে দেন তিনি। সঙ্ঘকে বুঝতে হলে, অনুভব করতে হবে—এই কথাতেই ছিল তাঁর মূল বার্তা।

ধীরে ধীরে তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দুতে আসে সঙ্ঘের লক্ষ্য। মোহন ভাগবত বলেন, হিন্দু সমাজের ঐক্য ও সংহতিই RSS-এর একমাত্র উদ্দেশ্য। ক্ষমতা বা টিকিট পাওয়ার জন্য সঙ্ঘের কাজ নয়—নিঃস্বার্থ ভাবেই কাজ করে যাওয়াই সংগঠনের সংস্কৃতি। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, RSS-এর বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত ভাবে ভুল ন্যারেটিভ ছড়ানো হয়। তবে সঙ্ঘ কাউকে শত্রু বলে মনে করে না, বরং সমাজের ভেতর থেকে বিভাজন দূর করাই তাদের লক্ষ্য।

বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে তিনি বারবার তুলে ধরেন বাংলার মনীষীদের নাম। রাজা রামমোহন রায়, স্বামী বিবেকানন্দ, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু—এই তিন জনের কথার উল্লেখ করে মোহন ভাগবত বোঝাতে চান, সমাজ সংস্কার ও জাতীয় চেতনা নতুন কিছু নয়। রামমোহন রায়ের সমাজ সংস্কারের লড়াইয়ের ধারাকেই RSS এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় বলে জানান তিনি। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে অতীতের সেই সময়ের কথাও, যখন সমাজের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ভারত বারবার বিদেশি শক্তির হাতে গিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ Kolkata : বাংলাদেশে অশান্তির আগুন, কলকাতায় প্রভাব পড়বে না তো?”- উৎসবের মরশুমে কলকাতায় বাড়তি নজরদারির নির্দেশ সিপির!

বক্তব্যের শেষভাগে এসে মোহন ভাগবত আরও একবার ঐক্যের কথাই জোর দিয়ে বলেন। তাঁর মতে, হিন্দু সমাজ ঐক্যবদ্ধ না হলে ভবিষ্যতেও একই ভুলের পুনরাবৃত্তি হতে পারে। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের অস্থির পরিস্থিতির প্রসঙ্গ ঘুরেফিরে আলোচনায় থাকায়, কলকাতায় এসে দেওয়া এই বার্তা রাজনৈতিক ও সামাজিক দুই দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকেই। সব মিলিয়ে, সঙ্ঘ প্রধানের বক্তব্য শুধুই সংগঠনের ভিতরের বার্তা নয়, বরং বৃহত্তর সমাজের উদ্দেশেই এক স্পষ্ট আহ্বান।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর