Bangladesh: ঢাকায় ছায়ানটে আগুন-ভাঙচুরের তদন্ত শুরু, ভিসা সেন্টার বন্ধে চাপে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক?

বাংলাদেশে গত কয়েক দিন ধরে যে অস্থিরতার ছবি ধরা পড়ছে, তা কেবল একটি ঘটনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। একের পর এক ঘটনা, প্রতিবাদ, প্রশাসনিক পদক্ষেপ—সব মিলিয়ে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে টানটান পরিস্থিতি। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম, সিলেট—সব জায়গাতেই বাড়তি সতর্কতা চোখে পড়ছে। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন, আদৌ কি পরিস্থিতি স্বাভাবিকের পথে ফিরছে, নাকি আরও গভীর কোনও সংকেত দিচ্ছে এই ঘটনাপ্রবাহ?

এই উত্তেজনার মাঝেই সামনে এসেছে ছায়ানটে হামলার ঘটনা। শুক্রবার রাতে ঢাকার ধানমণ্ডি থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। ছায়ানটে হামলা, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর এবং লুটের অভিযোগে এই মামলা করেছেন সংস্থার প্রধান ব্যবস্থাপক দুলাল ঘোষ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম মামলায় উল্লেখ করা হয়নি। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাত থেকে যে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব পড়েছে গোটা দেশে। শনিবারই কবর দেওয়া হয়েছে ওসমান হাদির মরদেহ। এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করেই উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইনকিলাব মঞ্চের তরফে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে, দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। এই হুমকির পর থেকেই প্রশাসন আরও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক পরিসরেও। চট্টগ্রামে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র। বিবিসি বাংলার দাবি অনুযায়ী, সম্প্রতি চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবনে হামলার চেষ্টার ঘটনার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২১ ডিসেম্বর থেকেই এই নির্দেশ কার্যকর হয়েছে। আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর ভিসা কেন্দ্র পুনরায় চালু করা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আরও পড়ুনঃ Kolkata : “সঙ্ঘকে অনুভব করতে হবে, টিকিটের জন্য কাজ নয়”— বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে বিজেপি–RSS -এর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা মোহন ভাগবতের!

অন্যদিকে, সিলেটের ভারতীয় উপদূতাবাস এবং ভিসা আবেদন কেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদার করেছে মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার। বৃহস্পতিবার রাতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চট্টগ্রামে ভারতীয় হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ দেখায় একদল মানুষ। সেই ঘটনায় অন্তত ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। এর পরই প্রশাসনের তরফে দ্রুত নিরাপত্তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি এখন নজরদারির মধ্যেই রয়েছে, আর সাধারণ মানুষ অপেক্ষায়—এই অস্থিরতা কবে কাটবে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles