West Bengal : ভোটার তালিকা সংশোধনের আগে তৎপর নির্বাচন কমিশন, এসআইআর নিয়ে ব্যস্ত বিএলওরা— কলকাতায় একাধিক ক্যাম্পে চলছে প্রশিক্ষণ!

ভোটের আগে ভোটার তালিকা ঠিক ব্যস্ত রাজ্য প্রশাসন। রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলওদের (BLO) বিশেষ প্রশিক্ষণ। কোথাও চলছে একাধিক ক্যাম্প, কোথাও আবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অফিসাররা নিজেদের এলাকায় ঘরে ঘরে ঘুরে ভোটারদের তথ্য সংগ্রহের জন্য। মূল লক্ষ্য— ভোটার তালিকাকে একেবারে নির্ভুল করে তোলা।

চলতি বছরের ২৮ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে এই প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় চলছে এই কর্মশালা। আগামী ৩ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে প্রশিক্ষণ। প্রশিক্ষণে বিএলওদের শেখানো হচ্ছে ‘স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন’ বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার ধাপগুলো। অর্থাৎ, কীভাবে ঘরে ঘরে গিয়ে ফর্ম বিলি করতে হবে, কীভাবে তথ্য সংগ্রহ ও নির্দিষ্ট অ্যাপে আপলোড করতে হবে, তারই বিস্তারিত নির্দেশ দিচ্ছেন কর্মকর্তারা।

শনিবার কলকাতার কলেজ স্ট্রিটের ডিরোজিও হলে দু’দফায় প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। সকাল ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত প্রথম দফায় চৌরঙ্গী, বেলেঘাটা ও জোড়াসাঁকোর বিএলওরা এবং দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এন্টালি, শ্যামপুকুর ও কাশীপুর-বেলগাছিয়ার অফিসাররা প্রশিক্ষণ নেবেন। পাশাপাশি, মানিকতলার বিএলওদের জন্য পৃথক ক্যাম্প হচ্ছে জেসপ বিল্ডিংয়ের তিনতলায়।

সূত্রের খবর, এসআইআর-এর জন্য নির্দিষ্ট ফর্ম ইতিমধ্যে ডাউনলোড করা হয়েছে এবং শনিবারের মধ্যে ছাপা শেষ করে ৩ নভেম্বরের মধ্যে তা বিএলওদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এরপর ৪ নভেম্বর থেকে শুরু হবে মূল কাজ— অর্থাৎ ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম বিলি ও তথ্য যাচাই। কমিশনের তরফে নির্দেশ রয়েছে, নির্দিষ্ট অ্যাপে এই তথ্য আপলোড করতে হবে যেন কোনও ভুল না থাকে।

আরও পড়ুনঃ LPG Cylinder Price cut: নভেম্বরের শুরুতেই খুশির খবর! কমল রান্নার গ্যাসের দাম, মিলবে কতটা সাশ্রয়?

বিহারে এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর প্রায় ৩০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও একই পথে এগোচ্ছে কমিশন। মৃত ভোটার বা যাঁদের নাম একাধিক জায়গায় রয়েছে, তাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা— বিরোধীদের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার আড়ালে ভোটার বাদ দেওয়ার রাজনীতি চলছে। যদিও কমিশনের দাবি, এটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ। এই প্রশিক্ষণ শেষ হলে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে বিএলওরা। নির্বাচন কমিশনের আশা— এবারের ভোটার তালিকা হবে আরও নিখুঁত, আরও স্বচ্ছ।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles