বালোচিস্তান নামটা শুনলেই যেন রক্তাক্ত ইতিহাস চোখে ভাসে। দশকের পর দশক ধরে বিদ্রোহ, অবহেলা, আর দমনপীড়নের আঁচে জ্বলছে এই প্রদেশ। আবারও সেই আগুন ছড়াল পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে। শনিবার ভোররাতে আচমকা বিস্ফোরণ আর গুলির শব্দে কেঁপে উঠল কালাত অঞ্চল। এখনও পর্যন্ত জানা গিয়েছে, এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৯ জন পাকিস্তানি সেনা।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, কালাতের হাইওয়ে ধরে পাকিস্তানি সেনার একটি কনভয় যাচ্ছিল। ঠিক সেই সময় আচমকা রকেট-প্রপেলড গ্রেনেড ছুড়তে শুরু করে বালোচ লিবারেশন আর্মি বা বিএলএ। সঙ্গে সঙ্গে বুলেটের ঝড়ে তছনছ হয়ে যায় এলাকা। প্রথম ধাক্কায় দিশেহারা হয়ে পড়ে সেনারা। পরে পাল্টা গুলি চালানো শুরু হলেও তখন অনেকটাই দেরি। মাত্র পঞ্চাশ মিনিটের সংঘর্ষেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে নয় জন জওয়ান।
প্রাণ হারানোদের মধ্যে রয়েছেন পাকিস্তানের স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপের দুই অভিজ্ঞ কম্যান্ডোও। এই দলটিকে পাকিস্তানি সেনার এলিট ফোর্স বলা হয়। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি শুরু করেছে সেনা। তবে এখনও পর্যন্ত ইসলামাবাদ বা পাকিস্তানি সেনার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি জারি হয়নি। স্থানীয় সূত্রের মতে, অন্তত দু’টি সামরিক যান মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই এক বিবৃতি জারি করে হামলার দায় স্বীকার করেছে বালোচ লিবারেশন আর্মি। তাদের দাবি, পাকিস্তানি সেনাকে “দমননীতির প্রতিশোধ” হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে পাল্টা গুলিতে বিএলএ-র কোনো সদস্য হতাহত হয়েছে কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এলাকাজুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, এবং সাধারণ মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন।
আরও পড়ুনঃ West Bengal : ভোটার তালিকা সংশোধনের আগে তৎপর নির্বাচন কমিশন, এসআইআর নিয়ে ব্যস্ত বিএলওরা— কলকাতায় একাধিক ক্যাম্পে চলছে প্রশিক্ষণ!
তেল ও খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও উন্নয়নের মুখ দেখেনি বালোচিস্তান। বহু বছর ধরে পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছেন বালোচ বিদ্রোহীরা। স্বাধীন বালোচিস্তানের দাবিতে বারবার সংঘর্ষের আগুন জ্বালিয়ে আসছে তারা। মার্চ মাসেই জাফর এক্সপ্রেস হাইজ্যাক করে আলোড়ন ফেলেছিল বিএলএ। সেই ধারাবাহিকতার সাম্প্রতিক অধ্যায় এই রক্তাক্ত হামলা, যা আবারও প্রমাণ করল — পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা থামার নয়।





