Burrabazar Fir*e Update:“আগে ২২ বার আগুন! অভিযোগ জানিয়েও সুরাহা নেই”—বড়বাজার বিপ*র্যয়ে দমকলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক কাউন্সিলর!

বড়বাজারের অলিগলিতে ভোরের নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎই ছড়ায় ধোঁয়া ও আগুনের লেলিহান শিখা। ঐতিহাসিক ব্যবসায়িক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই এলাকা একদিকে যেমন ঘিঞ্জি, অন্যদিকে অধিকাংশ বাড়ির গঠনও বহু পুরনো—সে কারণেই আতঙ্ক আরও বেড়ে ওঠে স্থানীয়দের মনে। দোকানপট্টি জেগে ওঠার আগেই আগুন এতটা ছড়িয়ে পড়েছে যে এলাকার বাসিন্দারা বুঝতেই পারেননি কখন পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়ে ফেলল।

দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, বড়বাজারের এই অংশটি অত্যন্ত সরু গলিপথে ভরা। ফলে একটি দমকল ইঞ্জিন ঢুকলেই আরেকটির জায়গা থাকে না। তার উপর অধিকাংশ দোকানে মজুত থাকে দাহ্য পদার্থ—ইলেকট্রিক সামগ্রী, প্যাকেজিং মাল, কাপড়সহ নানা আইটেম। আগুন লাগার পর পরই একাধিক সিলিন্ডার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যা নিয়ন্ত্রণের কাজকে আরও জটিল করে তোলে। টিনের ছাদের কারণে ভিতরে ঢুকতে দমকলকর্মীরা বাধার সম্মুখীন হন বারবার।

দমকল ও পুলিশ সূত্রে প্রাথমিক তথ্য—ভোর প্রায় ৫টা নাগাদ আগুন লাগে ১৭ নম্বর এজরা স্ট্রিটের একটি ইলেকট্রিক দোকানের দ্বিতীয় তলায়। অংশটি গোডাউন হিসেবে ব্যবহার হত এবং বিপুল পরিমাণ লাইট ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক সামগ্রী মজুত ছিল। সেখান থেকেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশের বাড়ি ও দোকানে। ঠিক কীভাবে আগুনের সূত্রপাত, তা এখনও পরিষ্কার নয়। দোকানের এসি বন্ধই ছিল, ফলে শর্ট সার্কিট বা অন্য কোনো সূত্রে আগুন লেগেছে কি না তা দমকল খতিয়ে দেখছে।

সকালের পর ঘণ্টা গড়ালেও আগুন এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। দমকলের অন্তত ২০টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে কাজ করছে। গ্যাস কাটার দিয়ে দেওয়াল ভেঙে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা চলছে, কারণ আগুন আশেপাশের প্রায় ১০০ দোকান ও কয়েকটি বাড়িতে ছড়িয়ে পড়েছে। দমকল ও প্রশাসনের প্রাথমিক হিসেব, ক্ষতির অঙ্ক কয়েক কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে।

আরও পড়ুনঃ বড় পর্দায় আসছে নরেন্দ্র মোদীর মায়ের জীবনকথা, হীরাবেন মোদীর চরিত্রে বলিউডের এই জনপ্রিয় নায়িকা

অগ্নিকাণ্ড নিয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর সন্তোষ পাঠক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যে বাড়িতে আগুন লেগেছে, সেখানে আগে ২২ বার আগুন লেগেছে… বহুবার অভিযোগ করেছি, কোনও সুরাহা হয়নি। দমকল ঠিক মতো কাজ করলে আগুন এতটা ছড়াত না।” তাঁর দাবি, এলাকার গঠন এমন যে, আগুন লাগার কথা নয় এমন বাড়িতেও আগুন ঢুকে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নাকি দমকল ও পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন, কিন্তু ফল মেলেনি। সেই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এখন প্রশ্ন উঠছে—এই বিপর্যয় কি আরও আগেই বন্ধ যেত?

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles