করোনা রুখতে টেস্টের সংখ্যা আরও বাড়ানোর নির্দেশ জারি কলকাতা হাইকোর্ট-এর

দেশে করোনা সংক্রমন নিয়ে কড়াকড়ি করছে কেন্দ্রীয় সরকার। ইতিমধ্যেই অতি সংক্রামক এলাকাগুলো চিহ্নিত করে ফেলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই লিস্টে নাম রয়েছে কলকাতারও। কেন্দ্রের তরফ থেকে রাজ্য সরকারগুলিকে কড়া পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। ‘স্পর্শকাতর’ এলাকাগুলোকে সিল করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এবার করোনা নিয়ে রাজ্য সরকারকে আরও নজর দিতে নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। রাজ্য আজ রিপোর্ট পেশ করে জানায় যে, ১৭ই এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ৩০০-র কিছু বেশি টেস্ট করা হয়েছে। রাজ্যের রিপোর্টের প্রেক্ষিতে এরপরই প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, ICMR-এর গাইডলাইন মেনে রাজ্যকে আরও বেশি টেস্ট করতে হবে এবং সংক্রমনের বিষয়ে আরও সতর্ক হতে হবে। দ্বিতীয় দফার লকডাউনের মধ্যেই সংক্রমনকে দমিয়ে ফেলতে হবে। ভাইরাসের মোকাবিলায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নামতে হবে। কলকাতা হাইকোর্টের মোট ৯ পাতার নির্দেশে একাধিক বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো হল

প্রথমত, করোনা মোকাবিলায় WHO এবং আইসিএমআর (ICMR)-এর গাইডলাইনগুলি অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতে হবে রাজ্য এবং সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে। দ্বিতীয়ত, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আরও বেশি করে করোনার টেস্টের করতে হবে এবং পরীক্ষার সংখ্যা বাড়াতে হবে। তৃতীয়ত, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বাস্থ্য সেবার সাথে যুক্ত প্রত্যেকের সুরক্ষা দিতে হবে। চতুর্থত, মামলাকারী এবং রাজ্য কেউই গোষ্ঠী সংক্রমণ নিয়ে কিছু না বললেও অবিলম্বে এটা আটকাতে হবে, সাথে রাজ্যকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় স্ক্রিনিং করতে হবে। পঞ্চমত, মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে রাজ্যের বিরোধিতা এখন বিচার করার সময় নয়। COVID-19 জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গরিব, বড়লোক কিছু দেখে না। তাই এই মামলা আদালতের চৌকাঠ থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া যাবে না। এবং সবশেষে আদালত জানায় যে, আদালত না চাইলেও নির্দিষ্ট সময় পর পর সরকারকে রিপোর্ট জমা করতেই হবে।

প্রসঙ্গত, এই মামলাটি সিপিআইএম নেতা ড. ফুয়াদ হালিম জনস্বার্থে করেন। এই প্রসঙ্গে রাজ্য সরকারের আইনজীবী আদালতের কাছে দাবি করেন, রাজনৈতিক পরিচয় গোপন করেই তিনি মামলাটি দায়ের করেছেন।তাই এটি জনস্বার্থ হতে পারে না। তবে সেই যুক্তি মেনে নেয়নি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি।

RELATED Articles

Leave a Comment