করোনা আক্রান্ত হওয়াও যেনো বর্তমান পরিস্থিতিতে অপরাধ করার সামিল। আর এবার ছেলের সামনেই বাবাকে করোনা আক্রান্ত হওয়ার অপরাধে জুতোপেটার অভিযোগ উঠল। হেনস্থার হাত থেকে রেহাই পাননি আক্রান্তের স্ত্রীও। তিনি আবার পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা!
ঘটনাটি ঘটেছে পাটুলি থানার কেন্দুয়ার একটি বহুতলে। ওই আবাসনে ছেলেকে নিয়ে থাকেন ওই দম্পতি। ভদ্রলোক করোনা পজিটিভ। বর্তমানে হোম আইসোলেশনে রয়েছেন। সুস্থও রয়েছেন। যদিও ওই ফ্ল্যাটে তাঁদের থাকা নিয়ে বেশ কয়েক দিন ধরেই আপত্তি জানাচ্ছিলেন প্রতিবেশীরা। তাই নিয়ে ওই দম্পতির সঙ্গে বেশ কয়েক বার বচসাও হয়। অভিযোগ, মঙ্গলবার সকালে ওই ব্যক্তির স্ত্রী ছাদে গেলে, তাঁর উদ্দেশে আপত্তিকর মন্তব্য করেন আবাসিকদের মধ্যে থেকে কয়েক জন। তিনি এবং তাঁর করোনা আক্রান্ত স্বামী এই ঘটনার প্রতিবাদ করলে, তাঁদের কপালে জোটে হেনস্থা। অভিযোগ এরপর ছেলের সামনেই ওই ভদ্রলোককে জুতোপেটা করা হয়। এমনটাই জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী।
ইতিমধ্যেই পাটুলি থানায় ই-মেল মারফত অভিযোগ জানিয়েছেন ওই দম্পতি। পুলিশ আক্রান্তের সঙ্গে কথাও বলেছে। ঠিক কী ঘটনা ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখছেন পুলিশকর্মীরা। আক্রান্তের স্ত্রীর কথায় ‘গত ১৭ জুলাই তাঁর স্বামীর করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এর পর থেকে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ফ্ল্যাটেই রয়েছি। কিন্তু হঠাৎই এর পর থেকেই প্রতিবেশীদের কয়েক জন আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতে শুরু করেন। ছেলের সামনেই ঘরের মধ্যে ঢুকে আমার স্বামীকে জুতোপেটা করেন ওঁরা। আমি নিজে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। করোনা রোগীরা যদি এমন হেনস্থার স্বীকার হন, তা হলে তাঁরা যাবেন কোথায়?’
যদিও মহিলার এই অভিযোগ সম্পূর্ণই অস্বীকার করেছেন ওই আবাসনের আবাসিকেরা। তাঁদের দাবি, এমন কোনও ঘটনাই নাকি ঘটেনি। তাঁদের পাল্টা অভিযোগ, ওই ফ্ল্যাটে এক জন করোনা রোগী রয়েছেন। কিন্তু পরিবারের সদস্যেরা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। আবাসনের বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরা করছেন তাঁরা। লিফট ব্যবহার করছেন। তাঁদের এই আচরণে অন্যদেরও আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। তবে কেউ তাঁদের নিগ্রহ করেনি বলেই আবাসিকদের দাবি। তাঁরাও থানায় ওই পরিবারের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছেন।





