আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও নিয়মশৃঙ্খলা বজায় রাখতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। সাধারণ মানুষের গচ্ছিত অর্থ সুরক্ষিত রাখা এবং সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ব্যাঙ্কের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু একাধিকবার দেখা গিয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলোর কিছু দুর্নীতি মামলায় তদন্তে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে। আদালতের হস্তক্ষেপ ছাড়া তদন্তে গতি আসছে না, যা ভাবাচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
ব্যাঙ্ক দুর্নীতির তদন্তে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে সিবিআই (CBI)-এর মতো সংস্থা ব্যাঙ্ক কেলেঙ্কারির ঘটনায় কতটা সক্রিয়, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে অনেকের মনেই। এর মূল কারণ, বহু মামলায় তদন্তের গতি অত্যন্ত শ্লথ, কখনও-বা অনুমোদনের দোহাই দিয়ে তদন্তই শুরু হচ্ছে না। সম্প্রতি এমনই একটি ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্ট ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এবং সিবিআই-এর ভূমিকা নিয়ে কঠোর প্রশ্ন তুলেছে।
স্টেট ব্যাঙ্ক (SBI) ও ইউকো ব্যাঙ্ক (UCO Bank)-এর কয়েকটি শাখায় কোটি কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে কয়েক বছর আগে। কিন্তু এতদিনেও সিবিআই সেই মামলায় এফআইআর (FIR) দায়ের করেনি। কারণ হিসেবে সংস্থাটি জানায়, তারা রাজ্যের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে, এই যুক্তি মানতে রাজি নন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। তাঁর মতে, পাবলিক মানির (Public Money) দুর্নীতি হলে সেখানে অনুমোদনের কোনও প্রশ্নই ওঠে না। তিনি সিবিআই-এর ভূমিকায় ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, “বাংলায় থেকে সিবিআই-এর এমন হয়েছে!”
আরও পড়ুনঃ শুভেন্দু অধিকারীকে সাসপেন্ড! তৃণমূলের শাসনে কি মুছে যাচ্ছে বিরোধি নেতারা?
এই মামলায় হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিচারপতি স্পষ্ট জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের কোনও দুর্নীতি মামলায় রাজ্যের অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। তাঁর বক্তব্য, “ব্যাঙ্কের টাকা তছরূপের অভিযোগে পাবলিক সার্ভেন্ট যুক্ত থাকলে অনুমোদন লাগবে কেন? যদি রাজ্যের অনুমতি চাওয়া হয়, সেটা ডাস্টবিনে গিয়ে পড়বে।” তিনি কয়লা পাচার মামলার রায় উল্লেখ করে বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা বা পাবলিক সেক্টর কর্মীদের বিরুদ্ধে FIR করতে রাজ্যের অনুমোদন দরকার হয় না।
অন্যদিকে, সিবিআই-এর আইনজীবী রাজদীপ মজুমদার আদালতে জানান, তদন্তের চাপ বেশি এবং জনবলের অভাব রয়েছে। তাছাড়া, ব্যাঙ্ক নিজেই দুর্নীতি অস্বীকার করলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। তবে, আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, FIR করার আগে সিবিআই একটি প্রাথমিক অনুসন্ধান করবে এবং ব্যাঙ্কের মতামত নেবে। যদি কোনও আপত্তি না থাকে, তাহলে দ্রুত FIR দায়ের করতে হবে। এই রায়ে স্পষ্ট, আদালত আর তদন্ত ফাইল আটকে থাকাকে বরদাস্ত করতে রাজি নয়।





