দেশের নিরাপত্তা বজায় রাখতে নিরন্তর প্রহরায় নিয়োজিত সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ (BSF)। ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য অপরাধ রুখতে তারা সদা সতর্ক। আন্তর্জাতিক সীমানার বিভিন্ন অঞ্চলে বিএসএফের তৎপরতার ফলে বহু বেআইনি কার্যকলাপ নস্যাৎ হয়েছে। তবে কখনও কখনও সীমান্তে তাদের এই কঠোর নজরদারির ফলে সংঘর্ষও বাধে। চোরাচালান রুখতে গিয়ে বিএসএফকে হামলার মুখেও পড়তে হয়। এরকমই এক ঘটনার সাক্ষী থাকল সীমান্তবর্তী একটি এলাকা, যেখানে বিএসএফের টহলদারি চলাকালীন ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর কাণ্ড।
সম্প্রতি বিএসএফ একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছিল। সেই সূত্র ধরে অভিযান চালাতে গিয়েই তারা ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে চোরাচালান রুখতে বিএসএফ প্রায়শই কঠোর ব্যবস্থা নেয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয় না। এই ঘটনায়ও পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যা নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খেতে হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। বিএসএফের এই পদক্ষেপের পর কী ঘটেছিল, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের মথুরাপুরে গোপন সূত্রে জানা যায়, প্রচুর পরিমাণ ফেনসিডিল মজুত করা হয়েছে। সেই খবর পেয়েই বিএসএফ অভিযান চালায়। কিন্তু সেখানে পৌঁছাতেই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা বিএসএফ জওয়ানদের মারধর করে এবং তাদের গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। আকস্মিক এই আক্রমণে সীমান্ত এলাকায় চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তবে বিএসএফ তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে।
আরও পড়ুনঃ“ডাস্টবিনে যাবে অনুমোদন!”—কোটি কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় সিবিআই-এর নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট!
এমনিতেই সীমান্তে উত্তেজনা ছিল, তার মধ্যে নতুন করে এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, গত মাসেই টুঙ্গি সীমান্তে চারটি বাঙ্কার এবং একটি গোপন চেম্বারের হদিশ মেলে। তদন্তকারীরা সেখানে প্রচুর ফেনসিডিল উদ্ধার করেন। শুধু তাই নয়, একটি প্লাস্টিকের জলের ট্যাঙ্কের ভেতরেও ফেনসিডিল মজুত করা ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু সাধারণ চোরাচালান নয়, বরং এর পিছনে আরও গভীর ষড়যন্ত্র লুকিয়ে থাকতে পারে।
এই ঘটনার পর বিএসএফের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে, তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। পুলিশের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সীমান্তে বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, শুধু ফেনসিডিল নয়, এর পিছনে আন্তর্জাতিক মাদকচক্রের বড় ষড়যন্ত্র লুকিয়ে থাকতে পারে। এখন দেখার, এই ঘটনার পর প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয় এবং এর আসল ষড়যন্ত্রকারীরা ধরা পড়ে কি না।





