Mamata banerjee suvendu Adhikari রাজ্য রাজনীতিতে যখন একের পর এক কেন্দ্রীয় তদন্ত নিয়ে চাপানউতোর, তখন সেই আবহেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল শাসক ও বিরোধী শিবিরে। সাম্প্রতিক কয়েক দিনে প্রশাসনিক তল্লাশি, রাজনৈতিক মন্তব্য এবং সামাজিক মাধ্যমে পাল্টা পোস্ট—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। ঠিক এই আবহেই মানহানি মামলা ঘিরে ফের মুখোমুখি অবস্থানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিষয়টি যে শুধু আইনি নয়, বরং রাজনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ, তা বলাই বাহুল্য।
কয়েক সপ্তাহ আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি মানহানির আইনি নোটিস পাঠান নন্দীগ্রামের বিধায়ক তথা বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। অভিযোগ ছিল, কয়লা দুর্নীতি মামলার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর একাধিক মন্তব্যে তাঁর নাম জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সেই নোটিসের কোনও জবাব না মেলায় বিষয়টি নতুন মোড় নেয়। বুধবার সামাজিক মাধ্যমে মুখ খুলে শুভেন্দু দাবি করেন, জবাব না পাওয়াই প্রমাণ করছে মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাইছেন।
নিজের পোস্টে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জবাব না দেওয়াই মুখ্যমন্ত্রীর অস্বস্তির পরিচয়। তিনি আরও দাবি করেন, কয়লা কেলেঙ্কারিতে তাঁর যুক্ত থাকার অভিযোগ সম্পূর্ণ কল্পনাপ্রসূত এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এখানেই থামেননি বিরোধী দলনেতা। সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি লেখেন, আইনি পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে এবং বিষয়টির নিষ্পত্তি আদালতেই হবে। ফলে এই মন্তব্য রাজনীতির ময়দানে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।
এই পুরো ঘটনার সূত্রপাত মূলত আইপ্যাক-এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে ইডি-র তল্লাশিকে কেন্দ্র করে। বৃহস্পতিবার সেই তল্লাশির মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীকে ঘটনাস্থলে গিয়ে ফাইল হাতে বেরোতে দেখা যায়, যা নিয়ে দেশজুড়ে আলোড়ন পড়ে। পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ইডি-র মাধ্যমে তাঁর দলের স্ট্র্যাটেজি ও প্রার্থী তালিকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। যদিও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি স্পষ্ট করে জানায়, কয়লা কেলেঙ্কারি মামলার সূত্র ধরেই দেশের মোট ১০টি জায়গায় এই তল্লাশি চালানো হচ্ছিল।
আরও পড়ুনঃ IPAC ED raid : ইডি-সিবিআইয়ের বড় অভিযানের প্রস্তুতি?দিল্লি থেকে পালে পালে অফিসার, শাসক শিবিরে বাড়ছে অস্বস্তি!
ইডি-র দাবি অনুযায়ী, তদন্তে হাওয়ালা লেনদেনের তথ্য উঠে এসেছে এবং সেই সূত্রেই আইপ্যাক-এর নাম সামনে আসে। তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য, ইন্ডিয়ান প্যাক কনসালটিং প্রাইভেট লিমিটেডের মাধ্যমে প্রায় ১০ কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের তথ্য মিলেছে, যার সঙ্গে যুক্ত একাধিক অভিযুক্তের বয়ানে প্রতীক জৈনের নাম উঠে এসেছে। এই প্রেক্ষিতেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে—আইনি লড়াই কোন দিকে মোড় নেয় এবং এই সংঘাতের শেষ পরিণতি ঠিক কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।





