মহিলাদের জন্য স্বনির্ভরতা ও উন্নয়নের এক নতুন অধ্যায় শুরু হল শুক্রবার। নয়াদিল্লি থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উদ্বোধন করলেন ‘মুখ্যমন্ত্রী মহিলা রোজগার যোজনা’, যার মাধ্যমে ৭৫ লক্ষ মহিলার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ১০ হাজার টাকা এককালীন পাঠানো হল। এই উদ্যোগকে প্রধানমন্ত্রী ‘মহিলা ক্ষমতায়নের এক বড় পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা বিহারের নারীদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার পথে নিয়ে যাবে।
এই যোজনার মূল উদ্দেশ্য হল প্রতিটি পরিবারের এক নারী সদস্যকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা, যাতে তাঁরা স্বনির্ভর হয়ে নিজ উদ্যোগ শুরু করতে পারেন। যোজনার প্রথম পর্যায়ে প্রত্যেক মহিলার অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা ঢোকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এরপর ব্যবসা সফল হলে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “যদি গত এক দশক আগে জনধন যোজনার মতো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকত, তাহলে এত চমৎকারভাবে টাকা সরাসরি মহিলাদের হাতে পৌঁছানো সম্ভব হতো না।” এই প্রকল্প বিহারে নারী উদ্যোগকে নতুন গতি দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার এই উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রশংসা করেন এবং জানান, এই যোজনার মাধ্যমে বিহারে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ‘লাখপতি দিদি’ তৈরি হবে। তিনি বলেন, “একজন ভাই তাঁর বোনের সুখ-সমৃদ্ধি দেখতে চান, আর আমরা এই যোজনার মাধ্যমে সেই লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করছি।” এই প্রকল্পে মোট ৭৫০০ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে, যা রাজ্যের ইতিহাসে মহিলাদের ক্ষমতায়নে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ।
বিরোধীরা অবশ্য এই উদ্যোগকে নির্বাচনী কৌশল হিসেবে সন্দেহ করে সমালোচনা করেছেন। কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বলেছেন, “১০ হাজার টাকার এককালীন অর্থ শুধু দেখাবাজি, এটা মহিলাদের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নয়।” তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিহারে মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই মহিলা হওয়ায় তাঁদের ভোটের গুরুত্ব অপরিসীম, এবং এই যোজনার প্রভাব নির্বাচনী মঞ্চে হৃদয়স্পর্শী হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ Pabda Bhapa Recipe: কলাপাতায় গন্ধরাজ পাবদার অসাধারণ স্বাদ, পুজোর মেনুতে রাখতেই হবে এই বিশেষ পদ
‘মুখ্যমন্ত্রী মহিলা রোজগার যোজনা’ শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বরং নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করবে। এই যোজনার মাধ্যমে বিহারের অনেক নারী স্বপ্ন পূরণের পথে এক সুদৃঢ় পদক্ষেপ নিলেন, যা রাজ্যের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।





