নির্বাচন ঘিরে বাংলার রাজনীতিতে উত্তাপ নতুন কিছু নয়। তবে ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো প্রশাসনিক প্রক্রিয়া যখন রাজনৈতিক অভিযোগের কেন্দ্রে চলে আসে, তখন তা স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল ও উদ্বেগ—দুই-ই বাড়ায়। সম্প্রতি এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে এমনই এক বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে এনে নতুন করে চাপ বাড়াল গেরুয়া শিবির।
বিজেপি নেতা অমিত মালব্য একটি অডিয়ো রেকর্ডিং প্রকাশ করে দাবি করেছেন, গরমিল থাকা সত্ত্বেও ভোটারদের নাম তালিকায় রাখার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সীমান্তবর্তী নদিয়া জেলায় লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি থাকা বহু আবেদনকে অনুমোদনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ডিইও অনীশ দাশগুপ্ত এবং অতিরিক্ত জেলাশাসক নৃপেন্দ্র সিং—দু’জনেই আইএএস অফিসার। বিজেপির দাবি, ইআরও ও এইআরও-দের ওপর সরাসরি চাপ তৈরি করা হয় যাতে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও নাম বাদ না দেওয়া হয়।
অমিত মালব্যর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় নকাশিপাড়া ব্লকে একটি বৈঠক হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা। অভিযোগ, সেই বৈঠকে এসআইআর প্রক্রিয়ায় নমনীয়তা দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এমনকি বৈঠকের সময় উপস্থিত আধিকারিকদের মোবাইল ফোন বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশাসনের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে নির্বাচন কমিশনকে ট্যাগ করে বিজেপি নেতা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, শুধু একটি ব্লক নয়—অন্যত্রও একই ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। তাঁর প্রশ্ন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় কারচুপির প্রয়োজনই বা কেন? ভুয়ো বা বেআইনি ভোটারদের রক্ষা করতেই কি এই তৎপরতা? একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, গোটা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন যাতে স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
আরও পড়ুনঃ Election commission : অভিযোগ-অ*শান্তি রুখতে আগাম পদক্ষেপ, বিধানসভা ভিত্তিক অবজারভার মোতায়েনের পথে নির্বাচন কমিশন!
উল্লেখ্য, এর আগেও এসআইআর চলাকালীন দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, কোনও অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না এবং প্রমাণ মিললে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কয়েকজন এইআরও-কে সাসপেন্ড করার ঘটনাও রাজনৈতিক মহলে চর্চার বিষয় হয়েছিল। সেই আবহেই এবার আইএএস অফিসারদের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল। এখন নজর, নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ নেয় এবং অভিযোগের তদন্ত কোন পথে এগোয়।





