ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক উত্তেজনা যেন নতুন মাত্রা নিচ্ছে। কোথাও বচসা, কোথাও সংঘর্ষ, এই আবহে সাধারণ মানুষের মধ্যেও বাড়ছে উদ্বেগ। দক্ষিণ কলকাতার পর্ণশ্রী এলাকায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঠিক এমনই উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা এখন রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে বড় বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রবিবার পর্ণশ্রী এলাকায় আচমকাই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ ওঠে, বিজেপির একটি দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালানো হয় এবং সেখানে ভাঙচুর করা হয়। শুধু তাই নয়, ল্যাপটপ নিয়ে যাওয়া এবং এক কর্মীকে মারধরের অভিযোগও সামনে আসে। ঘটনার পর বিজেপি সমর্থকেরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ শুরু করেন এবং বেহালা পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী ইন্দ্রনীল খাঁ-র নেতৃত্বে পর্ণশ্রী থানার সামনে বিক্ষোভ দেখানো হয়। সেই বিক্ষোভ ঘিরেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এই ঘটনার মধ্যেই থানায় পৌঁছান তৃণমূল প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায়। তাঁকে ঘিরে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের একাংশ ‘চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। পাল্টা তৃণমূল কর্মীরাও রাস্তায় নেমে স্লোগান তোলেন। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, শুরু হয় তুমুল বাকবিতণ্ডা, যা ধীরে ধীরে ধস্তাধস্তির পর্যায়ে পৌঁছায়। পুলিশি ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা পর্যন্ত হয় বলে জানা যায়। পরে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়।
ঘটনার পর বিজেপির অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রত্না চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ভাঙচুরে মদত দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি, এই ঘটনায় ৬ জন তৃণমূল কর্মীকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে কিছু জামিন অযোগ্য ধারাও রয়েছে। যদিও রত্না চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিতই ছিলেন না। তাঁর কথায়, “আমি বাড়িতে ছিলাম, পরে যখন জানতে পারি, তখন থানায় গিয়েছিলাম। সেটাই যদি অপরাধ হয়, তাহলে বলার কিছু নেই।”
আরও পড়ুনঃ জন্মদিনের কেক কাটতেই শুরু রক্ত*ক্ষয়ী সংঘর্ষ! লিলুয়ায় দলীয় কো*ন্দলেই আ*তঙ্ক ছড়াল, নির্বাচনের আগে কি বাড়ছে শাসক শিবিরের অন্দরকলহ?
এই ঘটনাকে ঘিরে এখন রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। বিজেপির দাবি, পরিকল্পিতভাবে তাদের অফিসে হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে। তবে সবকিছুর মধ্যেই বড় প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে সেই মুহূর্তে ঠিক কী ঘটেছিল? কারা জড়িত ছিল? আর এই ঘটনার নেপথ্যে আসল সত্যটা কী? এখনও পর্যন্ত সেই সব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর মেলেনি। তবে পরিস্থিতি যে এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়, তা স্পষ্ট। এলাকায় পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনও গোটা বিষয়টির উপর ন





