TMC inner conflict : দলীয় নির্দেশ মানল না ৭ কাউন্সিলর! দাঁইহাটে তৃণমূলের প্রকাশ্য গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে উত্তাল পৌরপ্রধান নির্বাচন!

দাঁইহাটে তৃণমূলের অন্দরের গুঞ্জন নতুন কিছু নয়। দীর্ঘদিন ধরেই সংগঠনের ভেতরের মতবিরোধ, নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ এবং গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে বারবার। নির্বাচন বা পদ বন্টন—এই দুই পরিস্থিতিই সাধারণত অস্থিরতা বাড়িয়ে তোলে। এবারও তার ব্যতিক্রম হল না। পৌরপ্রধান নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফের মাথাচাড়া দিল পুরনো ক্ষত, আর তার জেরেই তৈরি হল নতুন রাজনৈতিক উত্তাপ।

শুক্রবার দাঁইহাট পৌরসভায় ঠিক ছিল নতুন পৌরপ্রধান নির্বাচনের বৈঠক। ১৪ জন সদস্যকে নিয়ে এই সভা ডাকেন উপ-পৌরপ্রধান অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশ অনুযায়ী সমর সাহার নাম প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু বৈঠকে নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই তৈরি হয় অসন্তোষ। শিশির মণ্ডল-সহ সাতজন সদস্য ওই প্রস্তাব মানতে রাজি না হয়ে বৈঠককক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান।

তাঁদের অভিযোগের তীর সরাসরি রাজ্য নেতৃত্বের দিকে। শিশিরের দাবি, যে চিঠিকে ‘উর্দ্ধতন নির্দেশ’ বলে দেখানো হচ্ছে, তাতে কোনও রাজ্য নেতার স্বাক্ষর নেই। পাশাপাশি তিনি স্মরণ করিয়ে দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য—যাঁরা নিজেদের ওয়ার্ডে হেরেছেন, তাঁদের পদ থেকে সরিয়ে জয়ী সদস্যদের গুরুত্ব দেওয়ার কথা। কাটোয়া-কালনায় সেই নিয়ম মানা হলেও দাঁইহাটে তা উপেক্ষা করা হয়েছে বলেই অভিযোগ ওঠে। ফলত, নিজের ওয়ার্ডে হেরে যাওয়া কাউন্সিলর সমর সাহাকে পৌরপ্রধান করা তাঁদের একাংশ মানতে রাজি নন।

অন্যদিকে, উপ-পৌরপ্রধান অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁর দাবি, “সাতজন সদস্য স্বেচ্ছায় সই না করেই বেরিয়ে গেছেন। আমরা দলের নির্দেশই মেনেছি। সেই অনুযায়ী সমর সাহা নতুন পৌরপ্রধান।” জেলা তৃণমূল সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় আরও কঠোর সুরে বলেন, সাত সদস্যের আচরণ দলবিরোধী, এবং তা রাজ্য নেতৃত্বের কাছে লিখিতভাবে জানানো হবে। এর পর দল কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর।

আরও পড়ুনঃ Dinhata : দিনহাটায় বিজেপি নেতার মিষ্টি বিতরণে পুলিশের হঠাৎ হস্তক্ষেপ, উত্তেজনা ছড়ালো এলাকা জুড়ে!

এটি কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়, এর আগেও প্রাক্তন পৌরপ্রধান প্রদীপ রায়কে ঘিরে দাঁইহাটে দফায় দফায় মতবিরোধ দেখা দিয়েছিল। জেলা নেতৃত্ব, এমনকি মন্ত্রীর উপস্থিতিতে বহু বৈঠকের পরও সেই দ্বন্দ্ব পুরোপুরি মেটেনি। এবার দলীয় সিদ্ধান্তে পৌরপ্রধান বদল হলেও সাত কাউন্সিলরের বয়কট প্রমাণ করে দিল—গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এখনও অমীমাংসিত। দাঁইহাটে তৃণমূলের অন্দরের এই টানাপোড়েন যে ভবিষ্যতে আরও বড় রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে, তা বলাই যায়।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles