যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে। আংশিক সময়ের জন্য প্যাথলজি টেকনিশিয়ান ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ করা হবে। কিন্তু এই বিজ্ঞপ্তিকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক ছড়িয়েছে। এই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দৈনিক ৭০০ টাকা ভাতায় নিয়োগ করা হবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যা দেখে চটেছেন চিকিৎসকরা। সেখানে কাজের সময় সপ্তাহে তিনদিন ২ ঘণ্টা করে। এই ভাতা যে খুবই বেমানান, এমনটাই মনে করছেন চিকিৎসক মহলের একাংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে কী জানানো হয়েছে?
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে জানানো হয়েছে, আংশিক সময়ের (পার্ট টাইম) জন্য এক জন চক্ষু বিশেষজ্ঞ, এক জন নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ (ইএনটি) এবং এক জন চর্ম বিশেষজ্ঞ নেওয়া হবে। হাসপাতালে ন্যূনতম ৩ বছর কাজের অভিজ্ঞতাও থাকতে হবে ওই চিকিৎসকদের।
বিজ্ঞপ্তিতে পরিষ্কার জানানো হয়েছে, সপ্তাহে তিনদিন ২ ঘণ্টা করে এই চিকিৎসকদের পরিষেবা দিতে হবে। সেই পরিষেবার জন্য দৈনিক ৭০০ টাকা বেতন দেওয়া হবে তাদের, এমনটাই জানানো হয়েছে। আংশিক সময়ের জন্য একজন প্যাথোলজি টেকনিশিয়ান নিয়োগ করা হবে বলে জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। ওই পদের জন্য মাসিক বেতন ১০ হাজার টাকা।
এই বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে কী জানাচ্ছে চিকিৎসক মহল?
বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিজ্ঞপ্তি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে অ্যাসোসিয়েশন অফ হেলথ সার্ভিস ডক্টরস-এর সম্পাদক ডা. মানস গুমটা এই বিষয়ে বলেন, “একজন অভিজ্ঞ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের, এই রকম অসম্মানজনক চাকরির শর্ত? তাও আবার সরকারি ক্ষেত্রে? নিট ইউজি পরীক্ষার ভয়ঙ্কর প্রতিযোগিতায় সফল হয়ে, সাড়ে পাঁচ বছরের এমবিবিএস কোর্স। বিশেষজ্ঞ হতে গেলে আবারও কঠিনতম প্রতিযোগিতা নিট-পিজি সফল হয়ে তিন বছরের এমডি, এমএস কোর্স এবং তিন বছরের কম্পালসারি বন্ড সার্ভিস। তারপরেও পাঁচ বছর কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চুক্তি চাকরির বেতন ঘন্টায় ৩৫০ টাকা? এ লজ্জা রাখব কোথায়? দেশের শ্রেষ্ঠ মেধাবীদের এই মূল্য? যারা এই বেতনক্রম ঠিক করেছেন, ধিক্কার জানাই তাদের”।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কী বক্তব্য?
বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে জানানো হয়েছে যে গত বছরও চিকিৎসকদের দৈনিক ভাতা ৭০০ টাকাই ছিল। এই বছরও তাই-ই রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আধিকারিকের কথায়, ভাতা বাড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট কিছু পদ্ধতি রয়েছে। তবে এখনও তা সম্ভব হয়নি। ভাতার অঙ্ক নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে তেমন আমল দিতে রাজি নন ওই আধিকারিক।
ওই আধিকারিকের পাল্টা প্রশ্ন, “২৫ টাকায় কী বর্তমান সময়ে হোস্টেলে থাকা যায়? মাসে ৭৫ টাকা বেতনে পড়া যায়? বা মাসে ২০০ টাকা দিয়ে কী ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া যায়”? উল্লেখ্য, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী উপাচার্য না থাকায় কর্মসমিতির বৈঠক হচ্ছে না। এর জেরে কোনও প্রস্তাব অনুমোদন পাচ্ছে না বলেও জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।





