‘রাজ্য সরকারের বিবেক মৃত’, চিতা সাজিয়ে মমতার পাড়ায় মিছিল ডিএ আন্দোলনকারীদের, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মোতায়েন বিশাল পুলিশবাহিনী

কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়ার দাবীতে আন্দোলন করছেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের একাংশ। আজ, শনিবার সেই আন্দোলন পড়ল ১০০ দিনে। আজ তৃণমূলের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির কাছ দিয়েই মিছিলে হাঁটবেন যৌথ মঞ্চের সদস্যরা। মিছিলের অনুমতি মিললেও হরিশ মুখোপাধ্যায় রোডে যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছিল না পুলিশ। তবে নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় আন্দোলনকারীরাও।

কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পর বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এই মিছিলের অনুমতি দেন। তবে আদালত শর্ত বেঁধে দিয়ে মিছিল করার অনুমতি দেয়। এর মধ্যে অন্যতম শর্ত হল, কোনওভাবেই এমন কোনও স্লোগান দেওয়া যাবে না যাতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করতে হবে।

এদিন দুপুর একটায় শুরু হয়েছে তাদের মিছিল। তবে এই মিছিলের আগে গণ্ডগোলের আশঙ্কা প্রকাশ করলেন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের সদস্যরা। তাদের কথায়, “আমরা খবর পাচ্ছি কিছু লোক ঢুকে গন্ডগোল পাকাতে পারে। আমরা পুলিশকে সে ব্যাপারে যা জানানোর জানিয়েছি”।

সরকারি কর্মচারী সংগঠনের নেতা বিজয় দাশগুপ্ত বলেন, “আদালতের নির্দেশে মিছিল হচ্ছে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করব। যদি কেউ ঝামেলা করে তাকে ধরে আমরাই পুলিশের হাতে তুলে দেব”।

কিন্তু হঠাৎ হরিশ মুখোপাধ্যায় রোডেই মিছিল কেন?

এই প্রসঙ্গে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে কেউ মিছিল করতে পারবে না এমন লিখিত আইন আছে? মুখ্যমন্ত্রী অফিসে গিয়েছিলাম দেখা করেননি। ভারতের পরম্পরায় আছে গৃহস্থের বাড়িতে কেউ এলে তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। আমরা ওনার বাড়ির অফিসে দেখা করতে চাই। সেই কারণে বেছে নেওয়া”।

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সরকারি কর্মচারীরা কতটা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করবেন, তার উপর তাদের ভাবমূর্তি নির্ভর করছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই মিছিল যে সরকারের উপর চাপ তৈরি করার কৌশল, তা নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই। তবে এই মিছিল কোনও যুব বা ছাত্রদের মিছিল নয়। সেই কারণে মিছিলে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মিছিলের আগে সতর্কবার্তা দিলেন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের নেতারা।

মিছিলকে কেন্দ্র করে এদিন যাতে কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে কলকাতা পুলিশ। কালীঘাট ফায়ার স্টেশনের সামনে বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে জল কামান। কলকাতা পুলিশের সব কটি ডিভিশন থেকে ফোর্স নিয়ে আসা হয়েছে।

RELATED Articles