উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম — এই নামটি ফের শিরোনামে, ফের আলোচনায়। এক বিভীষিকাময় খুনের মামলায় সোমবার রায় ঘোষণা করল বারাসত আদালত। তবে এই রায় শুধুই বিচার নয়, যেন শিহরিত করে তুলল গোটা রাজ্যকেই। কারণ ঘটনাটি এমনই নির্মম, যেখানে এক মহিলাকে খুন করে তাঁর দেহ ট্রলিব্যাগে ভরে ফেলার অভিযোগ উঠেছিল স্বজনদের বিরুদ্ধেই।
বারাসত আদালতের বিচারক এদিন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন আরতি ঘোষ ও তাঁর মেয়ে ফাল্গুনী ঘোষকে। পাশাপাশি, প্রত্যেককে এক লক্ষ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছ’মাসের কারাবাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৩৮/৩ ধারা অনুযায়ী প্রমাণ লোপাটের অপরাধে সাত বছরের অতিরিক্ত সাজা ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও ধার্য হয়। এই সাত বছরের সাজা শেষ হওয়ার পরই শুরু হবে যাবজ্জীবন কারাবাসের মেয়াদ। যদিও অভিযুক্তদের আইনজীবী জানিয়েছেন, তাঁরা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে এই ঘটনার সূত্রপাত। বিবাহবিচ্ছেদের পর অসমে ভাইয়ের বাড়িতে থাকতেন সুমিতা ঘোষ। তাঁর ভাইপোর সঙ্গেই বিয়ে হয় ফাল্গুনী ঘোষের। কিন্তু সংসারে অশান্তি শুরু হতেই ফাল্গুনী ফিরে আসে মা আরতির কাছে, থাকতেন মধ্যমগ্রামের দক্ষিণ বীরেশপল্লিতে।
১১ ফেব্রুয়ারি সুমিতা আসেন কলকাতায় বোনের ডাকে। দু’দিন পর বর্ধমানে প্রাক্তন স্বামীর সঙ্গে দেখা করে ফিরে আসার পর ২৩ ফেব্রুয়ারি তুমুল অশান্তি বাধে। তদন্তে উঠে এসেছে, সেই সময় ফাল্গুনী ভারী বস্তু দিয়ে সুমিতার মাথায় আঘাত করেন। পরে মা আরতির সহায়তায় শ্বাসরোধ করে তাঁকে খুন করা হয়। এমনকি দেহ থেকে সোনার গয়নাও খুলে বিক্রি করে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা পান মা-মেয়ে।
২৪ ফেব্রুয়ারি দেহ ঘরে রেখেই তারা যায় বড়বাজারে ট্রলি কিনতে। সেদিনই ফাল্গুনী মৃতার নাম ব্যবহার করে গয়নার অর্ডার দেন। পরদিন ভোরে দেহ ভরে ট্রলিব্যাগ নিয়ে ট্যাক্সিতে করে পৌঁছান কুমোরটুলি ঘাটে। কিন্তু স্থানীয়দের সন্দেহে ধরা পড়ে যায় তারা। গঙ্গায় দেহ ফেলার আগেই নর্থ পোর্ট থানার পুলিশ ট্রলির ভেতর থেকে উদ্ধার করে সুমিতা ঘোষের দেহ।
আরও পড়ুনঃ Supreme Court: নেপালের উদাহরণ টেনে সতর্ক করল সুপ্রিম কোর্ট! প*র্ন দেখা বন্ধের দাবিতে নতুন বিতর্কে সরগরম দেশ!
ঘটনার তদন্তভার যায় মধ্যমগ্রাম থানার হাতে। ফরেনসিক রিপোর্ট, ট্যাক্সিচালক ও সোনার দোকানদারদের বয়ান— সব মিলিয়ে পুলিশ জমা দেয় চার্জশিট। মোট ৩২ জন সাক্ষীর বয়ান শোনার পর আদালত সোমবার এই রায় ঘোষণা করে। দীর্ঘ শুনানির পর অবশেষে ন্যায় পেলেন সুমিতা ঘোষ, আর সমাজ পেল এক গা-ছমছমে খুনের নৃশংস সত্যের বিচার।






