কথায় বলে, বিপদে পড়লেও মানুষ নাকি নিজের আখের গোছাতে ভোলে না। এখন করোনা আবহে অনেকেই নিজের সুবিধা দেখছেন। কমদামি জিনিস চড়া দামে বেচছেন অনেক অসাধু ব্যক্তি। কিন্তু এই সময়েও লোকের পাশে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন কিছু মানুষ। দমদমের ডঃ অর্ধেন্দু ভট্টাচার্য তাদের মধ্যে একজন। ইনি এই দুর্দিনেও বাড়ি গিয়ে রোগীর চিকিৎসা করছেন।
দমদমের নাগেরবাজারের কাছে রামগড় এলাকায় থাকেন অর্ধেন্দু বাবু। এই করোনা আতঙ্কে কোনো ডাক্তারের চেম্বার কোথাও খোলা নেই। এমনকি জরুরি ভিত্তিতেও পরিষেবা দিচ্ছেন না কোনো ডাক্তার। বাড়িতে এসে রোগী দেখা তো দূরের কথা। সেখানে সারা বছরের মতো এই কঠিন সময়েও অর্ধেন্দু বাবু রোগীকে সেবা করাই পরম ব্রত হিসাবে গ্রহণ করেছেন। তিনি এলাকায় বাড়ি গিয়ে রোগী তো দেখছেনই। এমনকি যদি আর্থিক ভাবে দুস্থ কোনো পরিবার হয় তাদের কাছ থেকে স্বল্প মূল্যে বা বিনামূল্যে পরিষেবাও দিচ্ছেন। কারণ তার কাছে টাকার থেকে সাধারণ মানুষদের পরিষেবা দেওয়াটাই প্রধান।
প্রসঙ্গত, সারা বছরই তিনি প্রতি শুক্রবার বিনাপয়সায় চিকিৎসা করে থাকেন, এমনকি অনেক দুস্থ মানুষদের বিনামূল্যে ওষুধ ও দিয়ে সাহায্য করেন। তাই করোনার জন্য যখন চারিদিকে সব বন্ধ কিন্তু ডাক্তারবাবু শুক্রবারের এই রোগী দেখা বন্ধ করেননি। তিনি এখনও রোগী দেখা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং তিনি যে তাঁর সেবাব্রত থেকে কোনোভাবেই সরবেন না সেটাও জানিয়েছেন। করোনার এই কঠিন পরিস্থিতিতে যখন দিন আনি দিন খাই মানুষের আয় বন্ধ তখন জনদরদী এই ডাক্তারবাবু রোগীর বাড়ির অবস্থা বুঝে নিজের পারিশ্রমিকের থেকে অনেক কম টাকা নিচ্ছেন। তাঁর এই মহানুভবতায় আপ্লুত এলাকাবাসী। ডাক্তারবাবু বলতে তারা অজ্ঞান। কিন্তু সেইদিকে নির্লিপ্ত এই মহান মানুষটি, তিনি আক্ষরিক অর্থেই ডাক্তারির শপথ বাস্তব জীবনে পালন করে চলেছেন এই মারন ভাইরাসের সময়েও।





