বাঙালি সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজো প্রায় দোরগোড়ায়। দোকানে দোকানে, শপিং মলগুলিতে উপচে পড়ছে মানুষের ভিড়। একরকম করোনা চ্যালেঞ্জ করেই চলছে দেদার কেনাকাটা। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় শহরেরই এক জুতোর দোকানে ভিড়ের ছবি দেখে আঁতকে উঠেছেন অনেকেই। এই পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে, এই নিয়ে রাজ্যের এক চিকিৎসকের সংগঠন চিঠি পাঠালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
পুজোর আগেই কেনাকাটার জন্য মানুষের ঢল নেমেছে রাজপথে। পুজোর দিনগুলিতে আরও আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি তৈরি হতে চলেছে। এই বিষয় নিয়ে চিকিৎসক সংগঠন সতর্ক বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রীকে। তাঁদের স্পষ্ট মত, যে কোনওরকম খামখেয়ালীপনা ভয়াবহ করোনা সংক্রমণ ডেকে আনবে। এই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠিও লেখেন চিকিৎসক সংগঠন। চিঠিতে মহারাষ্ট্রের গণেশ পুজো, গুজরাটের গরবা, ও কেরলের ওনামের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
মহারাষ্ট্রে গণেশ পুজোতে রাশ টানায় সেখানে সংক্রমণ অনেকাংশে কমানো গেছে, গুজরাটেও নবরাত্রি উপলক্ষে গরবা খেলার অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু কেরলে ওনামের সময় স্বাস্থ্যবিধি শিথিল থাকায় সেখানে হু হু করে বেড়েছে করোনা সংক্রমণ। একই অবস্থা যাতে বাংলায় না হয়, তা নিয়ে আগের থেকেই মুখ্যমন্ত্রীকে আর্জি জানানো হয় চিকিৎসা মহল থেকে। একে একে আসতে চলেছে দীপাবলি, ছটপুজো, ও ক্রিসমাস। এসব ক্ষেত্রে লাগামছাড়া ভিড়ে যে কী প্রচণ্ড সর্বনাশ হতে পারে, তা নিয়ে যথেষ্ট ডক্টরস ফোরাম।
এই নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করতে গিয়ে উঠে এসেছে মহালয়ার দিনের তর্পণের কথাও। অপ্রীতিকর কোনও পরিস্থিতি তৈরির আগেই তাই রাজ্যকে এই ধরণের ভিড় আটকানোর দাওয়াই দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।
উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই ভিড় এড়িয়ে কীভাবে পুজো সারা যায় তা নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পুজো উদ্যোক্তাদের গাইডলাইন অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের সব বড় বাজেটের পুজোগুলি অল্প জাঁকজমকে সারার আদেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি, প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে মাস্ক ও স্যানিটাইজার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সামাজিক দূরত্ববিধি মানতেই হবে, এমনটাও নির্দেশ জারি করা হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, শুধু মাস্ক বা স্যানিটাইজারই যথেষ্ট নয়, উপযুক্ত সামাজিক দূরত্ববিধি যদি লঙ্ঘন করা হয় তবে পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। সামান্য ভুলচুকও অনেক বড় বিপদ বয়ে আনতে পারে। ফলে রাজ্য প্রশাসনকে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ডক্টরস ফোরাম থেকে। স্পেনে যে আবার দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ শুরু হয়েছে, এ কথাও মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠিতে মনে করিয়ে দিয়েছেন চিকিৎসক মহল।





