করোনার পরিস্থিতির জেরে অনেক ক্ষতির মুখ দেখেছে কলকাতার নিষিদ্ধ পল্লি সোনাগাছি। ব্যবসার ক্ষতি হয়েছে অনেক। করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এই পাড়ার একাধিক বাসিন্দা। এই কারণে করোনার তৃতীয় ঢেউ আসার আগে আরও বেশি সতর্ক শহরের অন্যতম বৃহৎ লাল আলোর পাড়া।
রাজ্য জুড়ে নানান যৌনকর্মীদের নিয়ে তৈরি হয়েছে ‘দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি’। সোনাগাছি ছাড়াও রাজ্যের সব যৌনপল্লিতেই এই দুর্বার কমিটি কাস্টমার কেয়ার ডেস্ক খোলার পরিকল্পনা করছে।
সোনাগাছিতে ইতিমধ্যেই এমন দু’টি ডেস্ক খোলা হয়েছে। আগামী দিনে এই সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান সংস্থার মুখপাত্র মহাশ্বেতা মুখোপাধ্যায়। এক সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেন, “আমরা শুরুতে পাঁচটি ডেস্ক খোলার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু তার মধ্যে দু’টি চালানো সম্ভব হচ্ছে। আসলে লকডাউন পরিস্থিতি চলায় আমাদের কর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবকরাও ঠিকঠাক কাজে আসতে পারছেন না”।
কিন্তু এই ডেস্কের কাজ কী?
দুর্বারের সদস্যরা সম্ভাব্য কাস্টমারদের থার্মাল গানের মাধ্যমে শরীরের তাপমাত্রা দেখার পর পল্লিতে ঢুকতে দিচ্ছেন। এরই সঙ্গে তাঁদের মাস্ক পরা রয়েছে কী না, তারা স্যানিটাইজারে হাত ধুয়েছেন নিয়েছেন কী না, তা-ও পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। তবে এক্ষেত্রেও কাজের কিছু সমস্যাও দেখা দিচ্ছে। দুর্বারের এক সদস্য বলেন, “এখানে যাঁরা আসেন, সবাই যে কাস্টমার তা নয়। আবার অনেকে কাস্টমার হলেও সেটা বলতে চান না। আমরা যথাসম্ভব সকলকে পরীক্ষা করছি”।
শুধু কাস্টমারই নয়, যৌনকর্মীদেরও করোনা নিয়ে নানান বিধিনিষেধ মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। করোনাকালে এই নিয়মে বলা হয়েছে, এক সঙ্গে একাধিক কাস্টমারকে ঘরে নেওয়া যাবে না। ঘর সবসময় স্যানিটাইজ করতে হবে। একটা কাস্টমার চলে গেলে পরক্ষণেই যৌনকর্মীদের স্নান করা বাঞ্ছনীয়। বিছানার চাদর পালটাতে হবে। কাস্টমার যতক্ষণ ঘরে থাকবে, ততক্ষণ উভয়কেই মাস্ক পরে থাকতে হবে।
কিন্তু এত নিয়ম কি যৌনকর্মীরা মানছেন? মসজিদ বাড়ি লেনের এক যৌনকর্মীর বক্তব্য, “প্রাণের দায়ে মানতে হচ্ছে ঠিকই। এত নিয়ম মানা সত্যিই কঠিন। তবে এখন কাস্টমার এতটাই কমে গিয়েছে, যে সমস্যা হচ্ছে না। তবে মাস্ক নিয়ে মুশকিল কাটছে না”। তিনি এও জানান, করোনা পরিস্থিতিতে যে কাস্টমাররা আসছেন তাঁদের বেশিরভাগই অসেচতন শ্রেণির।
তাঁর কথায়, “যখন কন্ডোম ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল, তখনই অনেক বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল। অনেক কাস্টমার তো এখনও মানতে চায় না। আর মাস্ক তো একটু পরেই সরে যায়। সত্যিইতো, মাস্ক পরে কি মিলন সম্ভব! তবু প্রাণের দায়ে চেষ্টা করতে হচ্ছে”।





