সপ্তাহ পেরোলেই শহরে নামবে মানুষের ঢল, পুজো শুরু। ঢাকে কাঠি পড়ল বলে। মণ্ডপে মণ্ডপে প্রস্তুতি প্রায় শেষ। চলছে শেষ তুলির টান। অতিমারির মধ্যেই চলছে মাতৃ বন্দনা। এ বছর দুর্গাপুজো অন্যান্য আর পাঁচটা বছরের থেকে অনেকটাই আলাদা। করোনা পরিস্থিতিতে পুজোর জন্য রাখা হয়েছে হাজার এক নিয়মাবলী। এবার এই নিয়মাবলীর সঙ্গেই যুক্ত হল অন্য এক উদ্যোগ। ই-পাস। হ্যাঁ, এই বছর কলকাতায় বেশ কিছু বড় বড় দুর্গাপুজো দেখতে গেলে অবশ্যই সাথে থাকতে হবে ই-পাস। ভিড় এড়ানোর জন্য এমনই এক অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’-এর তরফ থেকে।
ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের সেক্রেটারি শ্বাশত বসু জানান, ফোরামের অধীনে অন্তত ৪০টি পুজো কমিটি ই-পাস ব্যবস্থার অধীনে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে উত্তর কলকাতার ১৮টি পুজো ও দক্ষিণ কলকাতার ২৩টি পুজো। করোনা সংক্রমণ এড়াতে ও সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান শ্বাশতবাবু।
কিন্তু কীভাবে সংগ্রহ করা যাবে এই পাস? গোটা কলকাতাকে উত্তর ও দক্ষিণ, এই দুই জোনে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি জোনে থাকবে ২ ঘণ্টার টাইম স্লট। গোটা দিনে থাকবে মোট ১২টি টাইম স্লট। সেই স্লটে নির্দিষ্ট কোনও জোনে কোনও দর্শনার্থী কোন কোন ঠাকুর দেখতে চান, তা নির্বাচন করতে পারবেন। এরপর নিজের মোবাইল নম্বর নথিভুক্ত করে ই-পাস সংগ্রহ করতে হবে। এই পাস নির্দিষ্ট সময় নির্দিষ্ট পুজো মণ্ডপের গেটে দেখালে মণ্ডপের ভিতরে ঢোকার প্রবেশাধিকার পাওয়া যাবে। ঘণ্টায় কমপক্ষে ৫০০টি করে পাস পাওয়া যাবে বলে জানা গিয়েছে। তবে এক ব্যক্তি একসঙ্গে কতজনের পাস সংগ্রহ করতে পারবেন, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।
একদিকে দুর্গাপুজো, অন্যদিকে করোনা। এই পরিস্থিতিতে উৎসব পালনের জন্য জারি করা হয়েছে একগুচ্ছ নির্দেশিকা। চিকিৎসক মহল থেকে বারবার সাবধান করা হয়েছে যাতে সামাজিক দূরত্ববিধি ও স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে পালন করা হয়। কিন্তু এতো কিছু সত্ত্বেও রাজ্যে করোনা সুনামি আটকানো সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। এই ই-পাসের মাধ্যমে মণ্ডপে মণ্ডপে সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকলেও রাস্তায় ভিড় এড়ানো কীভাবে সম্ভব হবে, সে প্রশ্ন এখন অনেকের মুখেই।





