কলকাতার রাজনীতিতে আবারও উত্তাপ। আই-প্যাক সংক্রান্ত এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর তল্লাশিকে ঘিরে যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা আর শুধু রাজ্যেই সীমাবদ্ধ থাকল না। ঘটনাটি গড়াল দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত। প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ, তল্লাশিতে বাধা এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে পুলিশের সংঘাত—সব মিলিয়ে এই ঘটনা এখন রাজনৈতিক ও আইনি দুই দিক থেকেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
গত ৮ জানুয়ারি আই-প্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের কলকাতার বাড়ি ও অফিসে ED-র তল্লাশি অভিযান ঘিরে শুরু হয় প্রবল উত্তেজনা। অভিযোগ, অভিযানের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং কেন্দ্রীয় আধিকারিকদের কাজে বাধা দেওয়া হয়। এই ঘটনার পরই ED দাবি করে, পরিকল্পিতভাবে তাদের তল্লাশি প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটানো হয়েছে। এখান থেকেই ধীরে ধীরে বিষয়টি আইনি জটিলতার দিকে এগোতে শুরু করে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল ED। সংস্থার তরফে জোড়া পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। একটি পিটিশন করেছে ED নিজে, অন্যটি করেছেন তিনজন ED অফিসার—নিশান্ত কুমার, বিক্রম এহেলাওয়াত এবং প্রশান্ত চান্ডিলা। পিটিশনে রাজ্য সরকারকে সরাসরি পার্টি করা হয়েছে। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যের DGP, কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং IPS প্রিয়ব্রত রায়কেও মামলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ED-র অভিযোগ, তল্লাশির দিন প্রশাসনের শীর্ষ স্তর থেকেই বেআইনিভাবে হস্তক্ষেপ করা হয়।
এই ঘটনার পর রাজ্য পুলিশের তরফেও একাধিক FIR দায়ের হয়েছে। শেক্সপিয়র সরণি থানায় দুটি এবং বিধাননগরের ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানায় একটি FIR নথিভুক্ত হয়েছে। শেক্সপিয়র সরণির একটি FIR খোদ মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে, অন্যটি পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত। অভিযোগের আওতায় অজ্ঞাতপরিচয় ED আধিকারিক ও CRPF কর্মীদের নাম রয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ প্রতীক জৈনের আবাসনের কেয়ারটেকার, নিরাপত্তারক্ষী সহ তিনজনকে তলব করেছে এবং সিকিউরিটি রেজিস্টার বাজেয়াপ্ত করে তদন্ত শুরু করেছে।
আরও পড়ুনঃ Sushila Karki on Nepal: “নেপালকে বাংলাদেশ হতে দেব না”— জেনজি চাপ, রাজনৈতিক কটাক্ষের মাঝেই সুশীলা কারকির কড়া বার্তা!
এই মামলায় রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে ক্যাভিয়েট দাখিল করেছে, যাতে কোনও নির্দেশ দেওয়ার আগে রাজ্যের বক্তব্য শোনা হয়। অন্যদিকে ED চাইছে CBI তদন্ত এবং গোটা ঘটনার FIR করে পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান। হাইকোর্টেও ED ও তৃণমূল—দু’পক্ষের মামলা চলছে, যার শুনানি রয়েছে ১৪ জানুয়ারি। পাশাপাশি প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের প্রতিবেশীদেরও তলব করেছে পুলিশ। এখন সব নজর সুপ্রিম কোর্টের দিকে—ED-র গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে শীর্ষ আদালত কী পদক্ষেপ করে, সেটাই এই রাজনৈতিক-আইনি সংঘাতের ভবিষ্যৎ ঠিক করে দেবে।





