রাজনৈতিক উত্তাপ দিন দিন বাড়ছে। ED-র চলমান তল্লাশি এবং সুপ্রিম কোর্টে জমা হওয়া জোড়া পিটিশনকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের নজর এখন কেন্দ্রীভূত হয়েছে এই ঘটনায়। প্রশ্ন উঠছে, রাজ্য প্রশাসন ও কেন্দ্রের সংস্থা কীভাবে এই পরিস্থিতি সামলাবে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, তৃণমূল বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী ফের সরাসরি আক্রমণ করে বলেছেন, “কলকাতা পুলিশ নিজেই ফেঁসে বসে আছে। মনোজ বর্মা, রাজীব কুমার, ব্যাগটা গোছান।” তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, ED-র পিটিশন সুপ্রিম কোর্টে দাখিল হয়েছে এবং এর সঙ্গে রাজ্য সরকার ও স্বরাষ্ট্র দফতরের সম্পর্কিত বিষয়ও আলোচ্য। শুভেন্দুর মন্তব্যে রাজনৈতিক নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে, যা বিষয়টিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে।
অন্যদিকে, রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে মন্তব্য করেছেন রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সৌগত রায়। তিনি বলেছেন, “মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাজ্য প্রশাসনের কাজ। যেহেতু মুখ্যমন্ত্রী একটি সরকারি কাজে নয়, বরং তৃণমূলের নেত্রী হিসেবে গিয়েছেন, সেখানে তার নিরাপত্তা দেওয়াই আমাদের কর্তব্য।” সৌগত রায় আরও বলেছেন, হাইকোর্ট এখনও কোনো স্থায়ী নির্দেশ দেয়নি, তাই আদালত আগামী শুনানিতে বিষয়টি বিচার করবে।
রাজ্যের রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এই পরিস্থিতি শুধু প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিক হিসেবেও বড় ইস্যু তৈরি করেছে। ED-র অভিযুক্ত পিটিশনে বলা হয়েছে যে, তৃণমূলের কিছু দলীয় কাগজপত্র জব্দ করার চেষ্টা করা হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারের এবং বিরোধী দলের মধ্যে সরাসরি বিরোধ দেখা যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ইস্যু আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও সমালোচনার জন্ম দিতে পারে।
আরও পড়ুনঃ I-PAC raid : আই-প্যাক তল্লাশিতে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ অভিযোগ, মমতা-DGP-CP নাম জড়িয়ে জোড়া পিটিশন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে ED!
সবশেষে, রাজ্যের সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলের নজর এখন কেবল আদালতের শুনানি ও প্রশাসনের পদক্ষেপের দিকে। শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য এবং রাজ্য সরকারের প্রতিক্রিয়ার মধ্যে সুস্পষ্ট রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ফুটে উঠেছে। সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী শুনানি ১৪ তারিখ, যা আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কেমন হবে তা নির্ধারণ করবে। পরিস্থিতি এখন এমন যে, কে সত্যিই ফেঁসে গেছে এবং কারা কি পদক্ষেপ নেবে—এই প্রশ্নই এখন জনমনে প্রধান।





