পুলিশ ষড়যন্ত্রকারীদের আড়াল করছে, কোনও তদন্ত হচ্ছে না হেভিওয়েটদের বিরুদ্ধে, রেশন দুর্নীতি মামলা সিবিআইকে দেওয়া হোক, আদালতে আবেদন ইডির

রেশন দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের। আপাতত জেলবন্দি তিনি। এই দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছে তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানেরও। তবে আপাতত ফেরার তিনি। এমন আবহে এবার রেশন দুর্নীতির মামলার জন্য রাজ্য পুলিশের উপর আস্থা হারাল ইডি। কলকাতা হাইকোর্টে ইডির আর্জি যাতে রেশন দুর্নীতির সমস্ত মামলা রাজ্য পুলিশের থেকে সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়।   

এই মুহূর্তে রাজ্য পুলিশের হাতে রেশন দুর্নীতি সংক্রান্ত ছ’টি মামলা রয়েছে। হাইকোর্টে ইডি আবেদন করেছে যাতে এই সমস্ত মামলার তদন্তভার সিবিআইকে দেওয়া হয়। আর নতুন করে আবার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

কেন এমন আবেদন ইডির?

হাইকোর্টে ইডির দাবী, রাজ্য পুলিশের হাতে যে ছ’টি মামলা রয়েছে, সেই মামলার কোনও প্রকৃত তদন্তই করেনি রাজ্য পুলিশ। ইডির অভিযোগ, মূল ষড়যন্ত্রকারীদের বাদ রেখেই তদন্ত করা হয়েছে। সেই কারণেই সিবিআই-কে দিয়ে তদন্ত করানোর আবেদন জানাচ্ছে ইডি।

ইডির আরও দাবী, এই রেশন দুর্নীতিতে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তথা মন্ত্রীও জড়িত রয়েছে। যোগসাজশের পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে, কিন্তু তাও বিনা কারণে তদন্ত বন্ধ করে দিয়েছে রাজ্য পুলিশ। ইডি জানায়, এই মাম্লাগুলির অগ্রগতি কী, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদের বিরুদ্ধে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা জানার জন্য রাজ্য পুলিশের ডিজিকে চিঠিও দেয় ইডি। কিন্তু সেই চিঠি কোনও উত্তর মেলেনি। সেই কারণেই হাইকোর্টে এহেন আবেদন জানাল কেন্দ্রীয় এজেন্সি। আগামী শুক্রবারই এই আবেদনের শুনানি হতে পারে।  

বলে রাখি, রেশন দুর্নীতিতে এই মুহূর্তে জেলবন্দি প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, বাকিবুর রহমান, বনগাঁর প্রাক্তন পুরচেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ্য। খোঁজ চলছে সন্দেশখালির ‘ফেরার’ তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানেরও। ইডির দাবী, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, শঙ্কর আঢ্য সকলেই নিজেদের পরিবারের লোকজনের নামে নানান সংস্থা খুলে আর্থিক লেনদেন করেছেন। রেশন দুর্নীতিতে হাজার কোটি টাকার গোলমাল থাকতে পারে বলে অনুমান ইডির।   

RELATED Articles