ভারত জোড়ো যাত্রা করছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। বাংলায় সেই ন্যায় যাত্রা সেরেছেন তিনি। গতকাল, শুক্রবার তাঁর সেই যাত্রা বাংলা ছেড়ে ঢুকেছে ঝাড়খণ্ডে। তবে বাংলায় রাহুলের এই কর্মসূচি নিয়ে তাঁকে খোঁচা দিতে ছাড়লেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর জেরে ফের সেই একই প্রশ্ন উঠছে যে বিজেপির বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া জোট কী তাহলে এখন ভাঙনের মুখে?
গতকাল, শুক্রবার মুর্শিদাবাদের সুতিতে ন্যায় যাত্রা রাহুল গান্ধী। এদিন সেখানে বি’ড়ি শ্রমিকদের সঙ্গে বেশ কিছুটা সময় কাটান তিনি। তাদের সমস্যা, অভাবের কথা শোনেন। শুধু তাই-ই নয়, বি’ড়ি শ্রমিকদের ঘরে ঢুকে তাদের সঙ্গে কথা বলেন রাহুল। এমনকি বি’ড়ি শ্রমিকদের সঙ্গে বি’ড়ি বাঁধার কৌশলও শিখতে দেখা যায় তাঁকে। এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনার সময় বি’ড়ি শ্রমিকদের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান কংগ্রেস সাংসদ।
কী বললেন মমতা?
রাহুলের এই কর্মসূচি নিয়েই এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, “ভোট এসেছে তাই বসন্তের কোকিলরা ফটোশ্যুট করতে এসেছে। যারা কোনওদিন চায়ের দোকানে বসেইনি, চা বানাতে জানেই না, বাচ্চাদের আদর করেই নি, শিশু বলতে কি বোঝেই না, বি’ড়ি বাঁধতে জানেই না, বিড়ির বদলে অন্য কিছু হয়তো খায়…. বাব্বা বসন্তের কোকিলরা চলে এসেছে”।
লোকসভা ভোটে জোটের কী হবে, সেই প্রসঙ্গেও রাহুল ও কংগ্রেসের কথা টানেন মমতা। মমতার কথায়, বাংলায় তৃণমূলই একমাত্র বিজেপিকে ঠেকাতে পারে। কংগ্রেস দেশে সব মিলিয়ে চল্লিশটা আসনও জিততে পারবে না বলে মত মমতার। তাঁর কথায়, “আমি দুটো সিট দিতে চেয়েছিলাম, বলেছিলাম আচ্ছা জিতিয়েও দেব। কিন্তু ওরা খারিজ করে দেয়। এত অহঙ্কার! তার পর থেকে আমার সঙ্গে কোনও কথা নেই, সম্পর্কও নেই”।
প্রসঙ্গত, এর আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন যে বাংলায় রাহুল গান্ধীর ন্যায় যাত্রা সম্পর্কে তাঁকে কিছুই জানানো হয়নি। এদিন ফের সেই কথা তোলেন তিনি। বলেন, “বাংলা যাত্রা করবে, আমাকে তো জানায়নি। আমি প্রশাসনের কাছ থেকে শুনেছি। ডেরেককে ফোন করে বলেছে, আমাদের গাড়িটা পাশ করে দাও”।
মমতার সংযোজন, “তুমি বাংলায় না এসে উত্তরপ্রদেশে যেতে পারতে, বুকে কত পাটা আছে দেখতাম! এলাহাবাদে গিয়ে বিজেপিকে হারিয়ে এসো, বেনারসে গিয়ে বিজেপিকে হারিয়ে এসো, রাজস্থানে গিয়ে বিজেপিকে হারিয়ে এসো”।





