West Bengal SIR : শুনানি বন্ধ করে চাপ তৈরির চেষ্টা? বিএলএ বিতর্কে অনড় নির্বাচন কমিশন, তৃণমূলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘাতের ইঙ্গিত!

নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্যে হঠাৎ তৈরি হওয়া এক টানটান পরিস্থিতি নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও রাজনৈতিক চাপের সীমা নিয়ে। কোথাও কোথাও সাধারণ মানুষের ভিড়, কোথাও আবার রাজনৈতিক কর্মীদের উপস্থিতি—এই দুইয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা শুনানিকেন্দ্রগুলি ঘিরে যে অস্বস্তি তৈরি হচ্ছিল, তা সোমবার হুগলির একটি ঘটনার পর আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বাইরে থেকে দেখলে বিষয়টি সামান্য প্রশাসনিক টানাপোড়েন মনে হলেও, ভিতরে ভিতরে তা ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছিল গোটা রাজ্য জুড়েই।

এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত শুনানিকেন্দ্রে রাজনৈতিক দলের বুথ স্তরের এজেন্টদের উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি তোলে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের দাবি, এজেন্টদের উপস্থিতি ছাড়া শুনানি স্বচ্ছ হতে পারে না। এই দাবির বাস্তব রূপ দেখা যায় সোমবার হুগলির চুঁচুড়া-মগড়া ব্লক অফিসে। সেখানে গিয়ে শুনানি কার্যত বন্ধ করে দেন বিধায়ক অসিত মজুমদার। তাঁর বক্তব্য ছিল, কেন রাজনৈতিক এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না, তার লিখিত ব্যাখ্যা না পাওয়া পর্যন্ত শুনানি চলতে পারে না। প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে শুনানি প্রক্রিয়া বন্ধ থাকে, যার জেরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বহু সাধারণ ভোটার চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন।

এই ঘটনার পরেই কড়া অবস্থান নেয় নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে সমস্ত জেলাশাসকের কাছে স্পষ্ট নির্দেশ পাঠানো হয়। তাতে জানানো হয়, কোনও রাজনৈতিক দলের এজেন্ট কোনও ভাবেই এসআইআর-এর শুনানিকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। যদি কোনও আধিকারিক সেই নিয়ম ভাঙেন, তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হবে। একই সঙ্গে এটাও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়, রাজনৈতিক চাপ বা বিক্ষোভের কারণে শুনানি প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা চলবে না। প্রয়োজনে জেলাশাসককে নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে।

তৃণমূলের এই অবস্থানের পিছনে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশ রয়েছে বলেই দাবি করা হচ্ছে। রবিবার দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শুনানিকেন্দ্রে এজেন্টদের উপস্থিতি নিয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করেন। সূত্রের খবর, তিনি জানান, এটি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ। তার পরের দিনই হুগলিতে ঘটনাটি ঘটে। অসিত মজুমদার পরে দাবি করেন, কমিশন যাকে-তাকে শুনানিতে ডেকে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করছে। বয়স্ক ও অসুস্থদের দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে, সেই দুর্ভোগ কমাতেই তাঁর এই পদক্ষেপ।

আরও পড়ুনঃViral Video : “আমি মদ্যপ, ভয় লাগছে”—গভীর রাতে যাত্রীর কণ্ঠে আতঙ্ক, মাকে ফোন করে ভরসা হয়ে উঠলেন কলকাতার ক্যাবচালক!

যদিও পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত করতে মানবিক কারণ দেখিয়ে অবস্থান তুলে নেন বিধায়ক, তবু ভবিষ্যতে আবার শুনানি বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। শুধু হুগলি নয়, বর্ধমানের একটি কেন্দ্রেও একই দিনে শুনানি ঘিরে তৃণমূলের বিক্ষোভের খবর আসে। সব মিলিয়ে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে, রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে এই সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে। কমিশন যেখানে নিয়ম মানার প্রশ্নে অনড়, সেখানে তৃণমূল এই ইস্যুকে সামনে রেখে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় আরও আক্রমণাত্মক পথে হাঁটতে চলেছে—এই বার্তাই ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে রাজ্য রাজনীতিতে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles