Suvendu Adhikari : “ভোটের আগে সাবধান!” নন্দীগ্রামে ট্যাবলেট বিতরণ ঘিরে শুভেন্দুর বিস্ফো*রক সতর্কবার্তা!

নন্দীগ্রাম আবারও রাজ্য রাজনীতির আলোচনায়। ভোটের আবহ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক ভাষা হয়ে উঠছে আরও তীক্ষ্ণ, আরও উত্তেজনামূলক। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে শুরু হওয়া এক প্রকল্প ঘিরেই এবার তৈরি হয়েছে বড়সড় বিতর্ক। প্রকাশ্যে এমন এক মন্তব্য উঠে এল, যা শুধু রাজনৈতিক কটাক্ষে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সরাসরি মানুষের ভয়, আশঙ্কা আর আবেগকে ছুঁয়ে যাচ্ছে।

ঘটনার সূত্রপাত তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক ঘোষণাকে ঘিরে। রবিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, নন্দীগ্রাম থেকে তাঁর কাছে ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্য শিবির আয়োজনের একাধিক অনুরোধ এসেছে। সেই অনুরোধে সাড়া দিয়েই তিনি সেখানে স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার কথা ভাবছেন বলে জানান। আর ঠিক তার পরদিনই, সোমবার নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে সেই ঘোষণাকেই নিশানা করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। শুরুটা কটাক্ষ দিয়ে হলেও ধীরে ধীরে তাঁর বক্তব্য আরও বিস্ফোরক হয়ে ওঠে।

শুভেন্দু অধিকারী প্রশ্ন তোলেন, কারা এই অনুরোধ করেছে? তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে অতীতের একাধিক হিংসাত্মক ঘটনার প্রসঙ্গ। শেখ সুফিয়ান, দেবব্রত মাইতি-সহ একাধিক নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, যাঁদের বিরুদ্ধে নন্দীগ্রামে বোমাবাজি, খুনের অভিযোগ রয়েছে, তাঁরাই কি এই অনুরোধ করেছে? এই প্রশ্ন তুলে তৃণমূল সাংসদের ‘সেবাশ্রয়’ উদ্যোগের উদ্দেশ্য নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। এখানেই থেমে না থেকে, শুভেন্দুর বক্তব্য ধীরে ধীরে যায় আরও সংবেদনশীল এক জায়গায়।

সরাসরি হিন্দু জনসংখ্যা কমানোর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর আশঙ্কা, স্বাস্থ্য শিবিরে যে ট্যাবলেট বিতরণ করা হবে, তার মধ্যে জন্ম নিয়ন্ত্রক ট্যাবলেট মেশানো থাকতে পারে। সনাতনী হিন্দুদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ভোটের আগে ট্যাবলেট খাওয়া থেকে শুরু করে রক্ত পরীক্ষা বা ইনজেকশন নেওয়ার ক্ষেত্রেও সাবধান থাকতে হবে। এমনকি রক্ত পরীক্ষার প্রয়োজন হলে নিজে ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। তাঁর মন্তব্যে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টেনে এনে নন্দীগ্রামের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয়ের ছবিও আঁকা হয়।

আরও পড়ুনঃ West Bengal SIR : শুনানি বন্ধ করে চাপ তৈরির চেষ্টা? বিএলএ বিতর্কে অনড় নির্বাচন কমিশন, তৃণমূলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘাতের ইঙ্গিত!

সবশেষে সেবাশ্রয় প্রকল্পকে কার্যত ‘ভোট কেনার চেষ্টা’ বলে কটাক্ষ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, প্যারাসিটামল, ওআরএসের প্যাকেট কিংবা রক্ত পরীক্ষার শিবির করে নন্দীগ্রামের মানুষের ভোট কেনা যাবে না। এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য পরিষেবা না কি ভোটের অঙ্ক—এই প্রশ্নই এখন নন্দীগ্রামের রাজনীতির কেন্দ্রে, যার উত্তর খুঁজছে সাধারণ মানুষ।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles