বছরের শেষপ্রান্তে শহরজুড়ে যেন অন্যরকম একটা ব্যস্ততা। রাত বাড়লেই পিকনিক, পার্টি, বন্ধুদের আড্ডায় মেতে ওঠেন অনেকেই। উৎসবের আনন্দে কখন যে সময় গড়িয়ে যায়, টেরও পাওয়া যায় না। কিন্তু এই আনন্দের মাঝেই লুকিয়ে থাকে নানা অজানা আশঙ্কা—বিশেষ করে যখন কেউ নেশাগ্রস্ত অবস্থায় একা বাড়ি ফেরেন। শহরের ব্যস্ত রাতের রাস্তায় তখন বিশ্বাসটাই সবচেয়ে বড় ভরসা। ঠিক এমন এক রাতেই কলকাতায় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা নতুন করে মানুষকে ভাবতে বাধ্য করেছে, এখনও কি সমাজে ভরসার মানুষ আছে?
সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও ঘিরেই শুরু এই আলোচনা। ভিডিওটি ড্যাশক্যামে রেকর্ড করা, যেখানে দেখা যাচ্ছে একটি ক্যাবের ভেতরের দৃশ্য। সামনের আসনে চালক, পিছনের সিটে এক তরুণী যাত্রী। তরুণীর কথাবার্তা এবং আচরণ থেকেই স্পষ্ট, তিনি মদ্যপ অবস্থায় রয়েছেন। ভিডিওতে শোনা যায়, বারবার তিনি চালককে ‘কাকু’ বলে সম্বোধন করছেন এবং একটু আতঙ্কিত গলায় বলছেন, “আমি মদ্যপ, আপনি আমাকে বাড়ি পৌঁছে দেবেন তো?” প্রশ্নের মধ্যেই যেন লুকিয়ে ছিল ভয় আর অনিশ্চয়তা।
এই পরিস্থিতিতে অনেকেই হয়তো বিরক্ত হতেন বা দায়িত্ব এড়িয়ে যেতেন। কিন্তু ওই ক্যাবচালক ছিলেন একেবারেই অন্যরকম। তিনি ধীর, শান্ত স্বরে তরুণীকে বারবার আশ্বস্ত করেন। ‘বেটা’ বলে সম্বোধন করে বোঝান, ভয়ের কোনও কারণ নেই, তিনি নিরাপদেই তাঁকে বাড়ি পৌঁছে দেবেন। ভিডিওতে দেখা যায়, তরুণী কখনও উত্তেজিত হয়ে পড়লেও চালক এক মুহূর্তের জন্যও ধৈর্য হারাননি। বরং তাঁর কথাবার্তায় ছিল একধরনের অভিভাবকসুলভ ভরসা।
যাত্রাপথে হঠাৎই তরুণী তাঁর মাকে ফোন করেন। অসংলগ্ন কথাবার্তার মাঝেই তিনি ফোনটি চালকের হাতে ধরিয়ে দেন। মায়ের সঙ্গে কথা বলে চালক নিজে দায়িত্ব নিয়ে জানান, মেয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরছে। মজার ছলে তরুণী বলেন, এই অবস্থায় বাড়ি ফিরলে মা হয়তো চড় মারবেন। এই কথায় গাড়ির ভেতরে খানিকটা হাসির রেশও দেখা যায়। কিন্তু মজার আড়ালেও চালকের দায়িত্ববোধ ছিল স্পষ্ট—তিনি শুধু যাত্রী নামিয়ে দেওয়ার দায় নয়, একজন মানুষের নিরাপত্তার দায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন।
আরও পড়ুনঃ Yubabharati case : মেসি আনার আড়ালে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির ছক? যুবভারতী মামলায় ‘প্রভাবশালী’ শতদ্রু দত্তের খারিজ আদালতে!
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর মুহূর্তের মধ্যেই নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। কমেন্ট বক্স ভরে যায় প্রশংসায়। কেউ লিখেছেন, “এমন মানুষই সমাজের ভরসা।” কেউ আবার কুর্নিশ জানিয়েছেন ওই ক্যাবচালকের মানসিকতাকে। রাতের অন্ধকারে, উৎসবের উন্মাদনার মাঝেও যে এখনও মানবিকতা বেঁচে আছে—এই ঘটনাই যেন তার নিঃশব্দ প্রমাণ। কলকাতার এই ক্যাবচালক দেখিয়ে দিলেন, ভরসা এখনও পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি।





