SIR : “ভোটার তালিকা সংশোধনে বাধা! এসআইআরের কাজে গাফিলতি করলেই শাস্তি, ক্ষুব্ধ শিক্ষক সমাজ— তোলপাড় রাজ্যে রাজনীতি!

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যজুড়ে জোরকদমে চলছে বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা বা এসআইআর (SIR)। এই সমীক্ষার মাধ্যমে হালনাগাদ করা হচ্ছে ভোটার তালিকা। কিন্তু কাজের গতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। একাধিক জেলার বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলওদের (BLO) মধ্যে দেখা গেছে টালবাহানা, দিচ্ছেন নানা অজুহাত। ফলে এবার আর কোনও রকম ছাড় দিতে নারাজ কমিশন।

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার মধ্যে প্রত্যেক বিএলওকে কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের স্পষ্ট বার্তা— যদি কেউ দায়িত্ব পালন না করেন, তবে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি সাসপেন্ডও করা হতে পারে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে। ইতিমধ্যেই জেলাশাসকদের কাছে এই নির্দেশ পৌঁছে গিয়েছে। সূত্রের খবর, কিছু জেলার বিএলওরা ব্যক্তিগত কারণ বা অজুহাত দেখিয়ে দায়িত্ব এড়াতে চাইছেন, যা কমিশন একেবারেই মেনে নিতে নারাজ।

নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি বাড়িতে অন্তত তিনবার গিয়ে ভোটার তালিকার তথ্য যাচাই করবেন বিএলওরা। তাঁরা ঘরে ঘরে গিয়ে এনুমারেশন ফর্ম বিলি করছেন, যাতে নতুন ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা যায় বা পুরনো তথ্য সংশোধন করা যায়। অর্থাৎ, এসআইআরের সাফল্য মূলত নির্ভর করছে এই কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকার উপর। তাই তাঁদের অনুপস্থিতি বা গাফিলতি পুরো প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে বলে মনে করছে কমিশন।

তবে এই কাজ ঘিরে অসন্তোষও কম নয়। শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী অভিযোগ করেছেন, “প্রায় ৯৪,০০০ বুথের মধ্যে ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই শিক্ষকরা বিএলওর কাজ করছেন। ফলে অনেক স্কুলে শিক্ষক না থাকায় পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে।” তাঁর বক্তব্য, সরকারের উচিত শিক্ষকদের বদলে অন্য কর্মীদের এই দায়িত্ব দেওয়া। যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

আরও পড়ুনঃ Astrology: জগদ্ধাত্রী পুজোয় মহাজাগতিক মিলন! মঙ্গল-বুধের যুগলবন্দিতে তিন রাশির জীবনে আসছে সুখ-সমৃদ্ধি!

এসআইআরকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, এসআইআর এবং এনআরসি আতঙ্কে রাজ্যে অশান্তি তৈরি হচ্ছে, এমনকি এই আতঙ্কে এক ব্যক্তি আত্মহত্যাও করেছেন। অন্যদিকে, বিজেপির দাবি— মৃত ব্যক্তির নাম আগেই ভোটার তালিকায় ছিল, তাই এসব রাজনৈতিক প্রচার মাত্র। সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়া এখন রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে, আর কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে— সরকারি দায়িত্বে অবহেলা করলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles