West Bengal : ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান গ্যালারিতে বিস্ফোরণ, সিএএ-র সমর্থনে স্লোগান দেখে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি!

কলকাতা ফুটবলের ইতিহাসে গ্যালারি মানেই আবেগ, উন্মাদনা আর চিরাচরিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা। একদিকে ইস্টবেঙ্গল, অন্যদিকে মোহনবাগান— খেলার মাঠে লড়াই যতটা উত্তেজনা ছড়ায়, গ্যালারির ঢেউও তার চেয়ে কম যায় না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে গ্যালারির সেই উন্মাদনা শুধুমাত্র ফুটবলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এখন সেখানে প্রবেশ করছে রাজনীতি, পাল্টাপাল্টি স্লোগান আর মতাদর্শের দ্বন্দ্ব।

২০২০ সালে এনআরসি ও সিএএ বিরোধী আন্দোলনের সময়ই প্রথম গ্যালারিতে রাজনীতির ছাপ দেখা গিয়েছিল। যুবভারতীতে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের একাংশ ব্যানার টাঙিয়েছিল— “রক্ত দিয়ে কেনা মাটি, কাগজ দিয়ে না”। স্লোগানটি মিলিয়ে গিয়েছিল তৎকালীন “কাগজ দেখাব না” আন্দোলনের সঙ্গে। কিন্তু তখন সেভাবে পাল্টা স্লোগান দেখা যায়নি। এই বছরের ডুরান্ড কাপে সেই পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে গিয়েছে।

চলতি ডুরান্ড কাপে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান সমর্থকদের একাংশ বাংলাভাষী ও বাঙালিদের উপর আক্রমণের প্রতিবাদে ব্যানার প্রদর্শন করেন। তৃণমূল ও বাম নেতারাও সেই ছবিগুলি সমাজমাধ্যমে শেয়ার করেছিলেন। ঠিক তার পাল্টা হিসেবেই রবিবারের কোয়ার্টার ফাইনালে দেখা গেল বিজেপির ভাষ্য। ইস্টবেঙ্গল গ্যালারিতে ঝুলল— “যাদের জন্য ছাড়লাম দেশ, তারাই পরেছে বাঙালির বেশ” আর সঙ্গে ইংরেজি স্লোগান— “সেভ হিন্দু রিফিউজিস, উই সাপোর্ট সিএএ”। অন্যদিকে মোহনবাগান গ্যালারিতে ছিল— “প্রতিটি হিন্দু শরণার্থী আমার ভাই, অনুপ্রবেশকারীর ঠাঁই নাই”।

এই ব্যানার ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও তীব্র হয়েছে। বিজেপি নেতারা একে সমর্থন জানিয়ে ছবি পোস্ট করেছেন। শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন, পুলিশ ব্যানার নামানোর চেষ্টা করেছে, যা তিনি ‘কণ্ঠরোধ’ বলে দাবি করেন। অন্যদিকে সুকান্ত মজুমদার লেখেন, খেলার মাঠের জয় ছাপিয়ে গিয়েছে হিন্দু শরণার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর আবেগ। অপর দিকে, তৃণমূল স্পষ্ট জানিয়েছে, বাংলাভাষীদের উপর আক্রমণ এবং বাঙালিদের মর্যাদা রক্ষাই হবে আগামী বিধানসভা নির্বাচনের অন্যতম বড় ইস্যু।

আরও পড়ুনঃ Partha Chatterjee : তিন বছর পর আইনি স্বস্তি? ইডি-সিবিআই দু’মামলাতেই জামিন পেলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়, মুক্তির পথ কি এবার সত্যিই খুলছে?

তবে এই লড়াই এখানেই থামছে না। ইস্টবেঙ্গল ডুরান্ড সেমিফাইনালে উঠেছে এবং তাদের প্রতিপক্ষ ডায়মন্ড হারবার এফসি— যার কর্ণধার তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবারের ম্যাচকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক পাল্টা ভাষ্য আবারও গ্যালারিতে প্রতিফলিত হবে কি না, তা নিয়েই এখন কৌতূহল তুঙ্গে। ফুটবলপ্রেমীদের চোখ মাঠে যেমন থাকবে, তেমনই থাকবে গ্যালারির দিকেও— কারণ সেখানেই এখন তৈরি হচ্ছে রাজনীতির নতুন রণক্ষেত্র।

RELATED Articles