গত আট বছর ধরে ফুটপাতই তার ঘরবাড়ি। সেখানেই দিনের পর দিন শুয়ে কাটিয়েছেন তিনি। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা সবকিছু উপেক্ষা করেও পড়ে থাকতেন ফুটপাতেই। পরনে ছেঁড়াখোঁড়া জামাকাপড়, রুক্ষ চুল, ভিক্ষে করে কোনওমতে একবেলার খাবার জোগাড় করতেন হাওড়ার কদমতলার অভিষেক চট্টোপাধ্যায়। তবে নবমীর সন্ধ্যেতে আমূল পাল্টে গেল তাঁর জীবন।
রাজভবন সূত্রের খবর, নবমীর দিন বিকেলে রাজভবনের পুজো প্যান্ডেল ঘুরে দেখেন রাজ্যপাল শি আনন্দ বোস। তিনি যখন রাজভবনের কোয়াটার্সের দিকে যাচ্ছিলেন, সেই সময় পথে ফুটপাতে মাঝবয়সী এক ব্যক্তিকে দেখতে পান রাজ্যপাল। তিনি দোভাষীর মাধ্যমে জানতে পারেন যে ওই ব্যক্তির নাম অভিষেক চট্টোপাধ্যায়। বাড়ি ছিল হাওড়ার কদমতলায়। তবে পারিবারিক অশান্তির কারণে বিগত ৮ বছর ধরে ফুটপাতেই বসবাস করছেন তিনি। কখনও রাজভবনের ফুটপাথ কখনও বা ধর্মতলার ফুটপাথে দিন কেটে যায় ওই ভবঘুরের।
ভিক্ষে করে কোনওভাবে একবেলার খাবার জোটে ওই ব্যক্তির। রাজ্যপাল দোভাষীর মাধ্যমে জানতে পারেন যে অভিষেক নামের ওই ব্যক্তি একসময় হাওড়ার এক কারখানায় সাফাইকর্মীর কাজ করতেন। তা জানার পরই ওই ব্যক্তির থাকা, খাওয়া ও চাকরির ব্যবস্থা করে দেন রাজ্যপাল। তাঁর সঙ্গে থাকা আধিকারিকদের এমনই নির্দেশ দেন তিনি।
এই বিষয়ে রাজ্যপাল এক্স হ্যান্ডেলে জানান, “এদিন ফুটপাথের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় নজরে পড়ে অভিষেক চট্টোপাধ্যায় নামের এক ভবঘুরেকে। গত ৮ বছর ধরে যিনি ফুটপাথেই জীবন কাটিয়েছেন। এখন থেকে তাঁর রোটি-কাপড়া-মকানের বন্দোবস্ত করবে রাজভবন। রাজভবনেই চাকরি করবেন ওই ব্যক্তি”।
জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাতে এভাবে থাকার জেরে ওই ব্যক্তির একটু মানসিক সমস্যা তৈরি হয়েছে। সেই কারণে এখন রাজভবনের কোয়ার্টার্সে রেখে তার চিকিৎসা করানো হবে বলে জানা গিয়েছে। সুস্থ হয়ে উঠলে তাকে ফের সাফাইয়ের কাজে লাগানো হবে। তবে রাজ্যপালের এই উদ্যোগের প্রশংসা যেমন করেছেন, তেমনই আবার অনেকেই এই ঘটনার সমালোচনাও করেছেন।





