লকডাউনের জেরে এতদিন স্তব্ধ ছিল গোটা রাজ্য। কিন্তু ধীরে ধীরে শিথিল হচ্ছে এই লকডাউন। রাস্তায় লোক চলাচলও শুরু হয়েছে। ছন্দে ফিরছে কলকাতা।
কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত এলাকা লেকটাউন-ভিআইপি রোড। এখান দিয়েই আইটি সেক্টরে রোজ কাজ করতে যান হাজার হাজার মানুষ। এমনকি সল্টলেকের বিভিন্ন সরকারি দফতরেও কাজ করতে যান কর্মচারীরা। লেকটাউন ফুটব্রিজ দিনে প্রতিদিন প্রায় কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। এখন সংখ্যাটা হয়ত বেশ কম। কিন্তু মানুষ জন এই ফুটব্রিজ দিয়ে যাতায়াত এখনও করছেন। এদিকে এখানেই অপেক্ষা করছে মৃত্যুফাঁদ।
ঘূর্ণিঝড় আমফানের জেরে ওইদিন ফুটব্রিজের উপর হাইভোল্টেজ তার ঝুলে থাকা সহ পড়ে যায় মাটিতে। হাই এক্সটেনশন তার থেকে কেবল ও ফাইবার অপটিক তার সব পড়ে রয়েছে এই ফুটব্রিজে। এরমধ্যে দিয়েই কোনোমতে যাতায়াত করছেন মানুষ। আর এইসব তারের মধ্যে এখনও বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে কারণ ফুটব্রিজের স্ট্রিট লাইটগুলো এই তারের সাহায্যেই জ্বলছে বর্তমানে।
‘একা রামে রক্ষা নেই, সুগ্রীব দোসর’ প্রবাদকে সত্যি করে ফুটব্রিজের লেকটাউনের দিকের অংশে গাছের মোটা গুঁড়িও ঝুলে পড়ে আছে ব্রিজের উপর।
করোনা আবহে রীতিমত প্রাণ হাতে করে জীবনের দায়ে রাস্তায় নেমেছেন মানুষ। চলাচল করছেন এই বিপজ্জনক ব্রিজের উপর দিয়েই। এই অঞ্চলের বিধায়ক সুজিত বসু সস্ত্রীক বর্তমানে করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। এমনিতেই লোকে ভীতসন্ত্রস্ত তার উপর এই সর্বনাশা মৃত্যু ফাঁদ পাতা রয়েছে এই ব্যস্ত এলাকায়।
এতকিছুর পরেও নির্বিকার স্থানীয় প্রশাসন। এই অঞ্চলটি বিধাননগর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের ৪১ নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত। এখানকার কাউন্সিলর তৃণমূলের অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়। তিনিও এখনও পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি এই সমস্যা সমাধানে।
এলাকার মানুষ থেকে নিত্যযাত্রী সবাই রীতিমত ক্ষুব্ধ। আমফানের পর কেটে গিয়েছে প্রায় ১৫ দিন। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন এই হাইভোল্টেজ তার ও গাছের গুঁড়ি সরানোর কোনোরকম উদ্যোগ নেয়নি এখনও পর্যন্ত। তারা সব দায় ঝেড়ে ফেলছেন সিইএসসি-র ঘাড়ে।
এদিকে এখন কলকাতায় কালবৈশাখীর জন্য প্রায়ই ঝড়বৃষ্টি হচ্ছে, দিনকয়েকের মধ্যে রাজ্যে বর্ষা ঢুকেও যাবে। তখন কী হবে এই ভেবেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা সহ নিত্যযাত্রীরা। যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে বড়সর বিপদ।
প্রশাসনের কাছে এটাই কি তাদের প্রাপ্য, প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ।





