Humayun Kabir : “মুসলমানদের মসজিদ নির্মাণে বাধা দেওয়া হচ্ছে, অথচ সরকারি টাকায় একের পর এক মন্দির তৈরি হচ্ছে”- সাসপেন্ড হতেই হুমায়ুনের বিস্ফোরক আক্রমণ!

মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক বাতাস গত কয়েকদিন ধরেই অস্বাভাবিক ভাবে ভারী হয়ে উঠছিল। জেলা সফরে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি, স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ এবং দলীয় ক্ষোভ—সব মিলিয়ে উত্তেজনা আগেই তৈরি ছিল। এই পরিস্থিতির মাঝেই উঠে এল এক বিস্ফোরক মন্তব্য, যা মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। কে ঠিক, কে ভুল—তা হয়তো সময় বলবে, কিন্তু এদিনের ঘটনাই রাজনৈতিক মহলে নতুন প্রশ্ন ছুড়ে দিল।

এদিন দুপুরেই জানা গেল, তৃণমূল কংগ্রেস ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে সাসপেন্ড করেছে। প্রথমে অনেকে ভেবেছিলেন এ শুধু দলীয় সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত, কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই স্পষ্ট হয়—ঘটনা তার থেকেও অনেক বড়। কারণ সাংবাদিক বৈঠকে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেন ফিরহাদ হাকিম স্বয়ং। আর সেখান থেকেই শুরু হয় নতুন অধ্যায়। তথ্য সামনে আসতে শুরু করতেই ছবিটা আরও জটিল হয়ে ওঠে।

সাসপেন্ড হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই চুপ থাকেননি হুমায়ুন। পাল্টা আক্রমণে তিনি সরাসরি তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, মুসলমানদের মসজিদ নির্মাণে বাধা দেওয়া হচ্ছে, অথচ সরকারি টাকায় একের পর এক মন্দির তৈরি হচ্ছে। এখানেই থামেননি তিনি। আরও এক ধাপ এগিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে তোপ দাগেন—“এরকম আরএসএস মার্কা মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ে সরাসরি বিজেপির কেউ মুখ্যমন্ত্রী হলে আমি ওয়েলকাম জানাব।” তাঁর দাবি, মুসলমানদের ভোট নিয়ে তৃণমূল ক্ষমতায় আসে, অথচ মুসলিম জনপ্রতিনিধিদের কোনও গুরুত্বই দেওয়া হয় না।

তৃণমূলের পক্ষ থেকে অবশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাখ্যা এসেছে। তাঁদের প্রশ্ন, ভরতপুরের বিধায়ক হয়েও কেন বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ নির্মাণে এত সক্রিয় হুমায়ুন? দলের অভিযোগ, সাম্প্রতিক অশান্তির এলাকায় ইচ্ছাকৃতভাবে তিনি সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়াতে চাইছেন, যার প্রভাব পড়তে পারে আসন্ন ভোটে। আর এই কাজের মধ্যেই বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা রয়েছে বলেই দাবি তৃণমূলের। ফলে বিষয়টি কেবল সরকারি জমি বা অনুমতির প্রশ্নে আটকে নেই, বরং সরাসরি রাজনীতির পর্দা টেনে ধরেছে।

আরও পড়ুনঃ West Bengal SIR : যেখানে SIR ফর্ম নিয়ে রাজ্যে প্রতিদিনই অশান্তি—সেখানেই এক অবিশ্বাস্য ঘটনা! বৃদ্ধ দম্পতিকে ২৬ বছর পর ছেলের খোঁজ এনে দিল SIR–এর ম্যাপিং!

অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও মুর্শিদাবাদ সফরের সভা থেকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—“মুর্শিদাবাদের মানুষ দাঙ্গার রাজনীতি পছন্দ করেন না। সম্প্রীতিই আমাদের শক্তি।” ৬ ডিসেম্বর সম্প্রীতি দিবস পালনের কথা উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেছেন তাঁদের, “যাঁরা সাম্প্রদায়িকতার হোলি খেলছেন, তাঁরা সাবধান।” উল্লেখ্য, এটি প্রথম নয়—২০১৫ সালে দলবিরোধী কাজের জন্যও ছয় বছরের জন্য বহিষ্কৃত হয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। এবার তাঁর মন্তব্য ও সাসপেনশনের জল রাজ্য রাজনীতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেই দিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles